সাজেশন-2023 রাজা, কৃষক এবং শহর : প্রারম্ভিক রাজ্য এবং অর্থনীতি (600 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 600 খ্রিস্টাব্দ)
উচ্চমাধ্যমিক সাজেশন-2023
রাজা, কৃষক এবং শহর : প্রারম্ভিক রাজ্য এবং অর্থনীতি (600 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 600 খ্রিস্টাব্দ)
সঠিক উত্তরটি বাছাই করো। প্রশ্নমান 1
1. দক্ষিণ ভারতে একমাত্র মহাজনপদ হল—
(a) চেদি
(b) অস্মক
(c) কুরু
(d) বৃজি
উত্তর: (b) অস্মক ।
2. আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করে—
(a) খ্রিস্টপূর্ব 327 অব্দে
(b) খ্রিস্টপূর্ব 326 অব্দে
(c) খ্রিস্টপূর্ব 325 অব্দে
(d) খ্রিস্টপূর্ব 324 অব্দে
উত্তর: (a) খ্রিস্টপূর্ব 327 অব্দে।
3. সম্রাট অশোক 'ধৰ্ম্ম' কথাটি প্রথম যে লেখতে উল্লেখ করেন—
(a) রুমিনদেই
(b) কলশি
(c) গিরনার
(d) মাস্কি
উত্তর: (d) মাস্কি।
4. এলাহাবাদ প্রশস্তি উৎকীর্ণ করেন—
(a) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
(b) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
(c) সমুদ্রগুপ্ত
(d) স্কন্দগুপ্ত
উত্তর: (c) সমুদ্রগুপ্ত
5. ভারতে প্রথম স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন ঘটে—
(a) মৌর্য যুগে
(b) কুষাণ যুগে
(c) গুপ্ত যুগে
(d) হর্ষোত্তর যুগে
উত্তর: (b) কুষাণ যুগে।
6. মেগালিথ হল—
(a) বৃহৎ প্রাগৈতিহাসিক প্রস্তর কাঠামো
(b) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হস্তনির্মিত যন্ত্রাদি
(c) বৃহৎ কুটির
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর: (a) বৃহৎ প্রাগৈতিহাসিক প্রস্তর কাঠামো।
7. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সিংহাসনে বসেন—
(a) খ্রিস্টপূর্ব 323 অব্দে
(b) খ্রিস্টপূর্ব 322 অব্দে
(c) খ্রিস্টপূর্ব 321 অব্দে
(d) খ্রিস্টপূর্ব 320 অব্দে
উত্তর: (c) খ্রিস্টপূর্ব 321 অব্দে ।
৪. মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন—
(a) চন্দ্ৰগুপ্ত
(b) চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য
(c) অশোক
(d) বিন্দুসার
উত্তর: (b) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ।
9. ভারতীয় রাজাদের মধ্যে যাঁকে ‘দ্বিতীয় অশোক' বলা হয়—
(a) প্রথম কনিষ্ক
(b) দ্বিতীয় চন্দ্ৰগুপ্ত
(c) সমুদ্রগুপ্ত
(d) গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী
উত্তর: (a) প্রথম কনিষ্ক ।
10. ‘অমিত্রাঘাত' উপাধি ধারণ করেন—
(a) বিম্বিসার
(b) বিন্দুসার
(c) অশোক
(d) বৃহদ্রথ
উত্তর: (b) বিন্দুসার
নীচের প্রশ্নগুলি একটি শাব্দ / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও। প্রশ্নমান 1
1. মগধ জনপদের প্রথম রাজা কে ছিলেন ?
উত্তর: মগধ জনপদের প্রথম রাজা ছিলেন বিম্বিসার।
2. সম্রাট অশোকের লেখগুলি কোন্ ভাষা ও হরফে লেখা ?
উত্তরঃ সম্রাট অশোকের লেখগুলি সাধারণত প্রাকৃত ভাষা ও ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী হরফে লেখা।
3. সম্রাট অশোকের ‘ভেরিঘোষ নীতি' কী ?
উত্তর: সিংহাসনে বসার অষ্টম বছরে সম্রাট অশোক কলিঙ্গ অভিযান করেন এবং তাঁর এই যুদ্ধবিজয় নীতিকেই বলা হয় ‘ভেরিঘোষ নীতি'।
4. মৌর্য সাম্রাজ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা কীভাবে রক্ষিত হত ?
উত্তর: জল ও স্থল উভয়পথেই মৌর্য সাম্রাজ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষিত হত।
5. গিল্ড কী ?
উত্তর: প্রাচীন ভারতে বাণিজ্য ও শিল্পের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৃত্তির মানুষ যে পেশাদারি সংগঠন সৃষ্টি করে তাকেই সাধারণভাবে 'গিল্ড' বা শ্রেণি বা সমবায় সংঘ বলা হয়।
6. কবে থেকে গুপ্তাব্দ গণনা শুরু হয় ?
উত্তর: গুপ্তসম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজা হওয়ার সময় থেকে অর্থাৎ, 319-320 খ্রিস্টাব্দ থেকে গুপ্তাব্দের প্রচলন হয়।
7. নিউমিসম্যাটিক শব্দের অর্থ কী ?
উত্তর: নিউমিসম্যাটিক শব্দের অর্থ হল মুদ্রা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা বা গবেষণা।
৪. সম্রাট অশোকের সাম্রাজ্যের সীমানা নির্দেশকারী দুটি প্রধান পর্বতলিপির নাম করো।
উত্তরঃ সম্রাট অশোকের সাম্রাজ্যের সীমানা নির্দেশকারী দুটি প্রধান পর্বতলিপির নাম হল— গিরনার লিপি (গুজরাট) ও সোপারা লিপি (মহারাষ্ট্র)।
9. সম্রাট অশোক কবে কলিঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন ?
উত্তর: 261 খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট অশোক কলিঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন।
10. 'ভারতের রক্ষাকারী' বলা হয় কোন্ গুপ্ত রাজাকে ?
উত্তর: ‘ভারতের রক্ষাকারী' বলা হয় স্কন্দগুপ্তকে।
11. 'দেবনামপিয় পিয়দসি' কাকে বলা হত ?
উত্তর: ‘দেবনামপিয় পিয়দসি' মৌর্য সম্রাট অশোককে বলা হত।
12. আদিমাই কী বা কাদের বলা হত ?
উত্তর: তামিল সংগম সাহিত্য অনুসারে আদিমাই বলতে দাস বা ভৃত্যশ্রেণিকে বোঝানো হয়েছে।
13. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে ‘শকারি' বলা হয় কেন ?
উত্তরঃ তিনি সৌরাষ্ট্রের শকরাজ রুদ্রদমনকে পরাজিত করেছিলেন।
14. ক্ষত্রপ কাদের বলা হত ?
উত্তর: শাসনব্যবস্থার সুবিধার জন্য কৃষাণ সম্রাটরা সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলি প্রদেশে ভাগ করেছিলেন। সেইসব প্রদেশের শাসকদের বলা হত ক্ষত্রপ।
15. 'হাতিগুম্ফা লেখ' কার সময় খোদিত হয় ?
উত্তর: ‘হাতিগুম্ফা লেখা কলিঙ্গরাজ খারবেলের সময় খোদিত হয়।
16. কোন্ লিপি থেকে ভারতে আর্যদের আগমনের কথা জানা যায় ?
উত্তর: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব 1400 অব্দের এশিয়া মাইনরে প্রাপ্ত বোঘাজকোই লেখ থেকে ভারতে আর্যদের আগমনের কথা জানা যায়।
17. নকস্-ই-রুস্তম লেখ থেকে কী জানা যায় ?
উত্তর: নকস্-ই-রুস্তম লেখ থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে পারসিক আক্রমণের কথা স্মরণ করা যায়।
18. মিনাদ্দার কে ছিলেন ?
উত্তর: মিনান্দার ছিলেন একজন ইন্দো-গ্রিক শাসক।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 20টি শব্দের মধ্যে লেখো। প্রশ্নমান 2
1. সম্রাট অশোকের ধর্মবিজয় নীতি কী ?
উত্তর: ধর্মবিজয় নীতি: কলিঙ্গ যুদ্ধের পর তিনি চিরতরে অস্ত্র বর্জন করেন। তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং বুদ্ধের অহিংসা ব্রত পালন করেন। মানুষের উপকারের জন্য তিনি নানা প্রজাকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়েছিলেন। যেমন—রাস্তাঘাট নির্মাণ, রাস্তার দুধারে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা নির্মাণ ইত্যাদি ৷
2. কেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে ‘প্রথম ঐতিহাসিক ভারতীয় সম্রাট' বলা যায় ?
উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত শুধু সাম্রাজ্য বিস্তার করেই ক্ষান্ত ছিলেন না, তিনি তাঁর সাম্রাজ্যে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং ভারতের রাষ্ট্রীয় ঐক্যের পথ প্রশস্ত করেন। ড. হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী তাঁকে ভারতের প্রথম ঐতিহাসিক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন। ড. রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন, ‘প্রথম ঐতিহাসিক ভারতীয় সম্রাট'।
3. ভারতে কুষাণ যুগের উল্লেখযোগ্য অবদান কী ?
উত্তরঃ ভারতের ইতিহাসে কুষাণ রাজাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরাই প্রথম ভারতে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি প্রভূত বৃদ্ধি পায়। সেই সময় শিল্পক্ষেত্রে গান্ধারশিল্প চরম উৎকর্ষতা লাভ করে। যা ছিল ভারতীয়-গ্রিক-রোমান মিশ্র সংস্কৃতির এক অনন্য নজির। সম্রাট কনিষ্কের আমলেই ভগবান বুদ্ধের মূর্তির পূজোর প্রচলন ঘটে।
4. সম্রাট অশোকের ত্রয়োদশ শিলালিপির গুরুত্ব ?
উত্তর: অশোকের ত্রয়োদশ শিলালেখ থেকে জানা যায় কলিঙ্গ যুদ্ধের কাহিনি এবং তিনি এই যুদ্ধের পর যে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেন এবং ধর্মবিজয় নীতি গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় ও সপ্তম স্তম্ভলেখ থেকে তাঁর প্রচারিত মানুষের বিভিন্ন গুণাবলি ও পালনীয় কর্তব্যগুলি জানা যায়। অশোকের মাস্কিলিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি ‘ধৰ্ম্ম' কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন।
5. ইন্ডিকা কী ?
উত্তর: মৌর্য যুগের ইতিহাস জানতে হলে গ্রিক ভাষায় রচিত মেগাস্থিনিসের ইন্ডিকা গ্রন্থটি এক অমূল্য সম্পদ। এই গ্রন্থটি থেকে মৌর্য যুগের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের ওপর অনেক অজানা তথ্য জানা যায় । ইন্ডিকা গ্রন্থ থেকে তৎকালীন সময়ের মৌর্য রাজাদের রাজ্যশাসন প্রণালী ও পাটলিপুত্র নগরীর সুন্দর বর্ণনা পাওয়া যায়।
6. অশোক ‘ধৰ্ম্ম' বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর: অশোকের শিলালিপিগুলি থেকে জানা যায়, 'ধৰ্ম্ম' বলতে তিনি বোঝেন গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ব্রাক্ষ্মণ এবং সন্ন্যাসীদের প্রতি দানশীলতা, ভৃত্য ও ক্রীতদাসের প্রতি দয়া এবং ধর্ম ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।
7. মৌর্যযুগ জানতে হলে কোন্ কোন্ ঐতিহাসিক উপাদানের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয় ?
উত্তর: মৌর্যদের সম্পর্কে কিছু জানতে গেলে যে-সমস্ত উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হয়, তা হল— অর্থশাস্ত্র, ইস্তিকা, মুদ্রারাক্ষস, এপিগ্রাফ, পুরাণ এবং বেশ কিছু বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্য। এ ছাড়া সম্রাট অশোকের বিভিন্ন লিপি, যেমন, পর্বত লিপি, স্তম্ভলিপি, গুহালিপি ইত্যাদি।
৪. মগধ সাম্রাজ্যের উত্থানের প্রধান কারণ কী ছিল ?
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের মধ্যভাগে ভারতে মগধ রাজ্যের উত্থানের বা সাফল্যের পিছনে যে কারণগুলি বলিষ্ঠরূপে দেখা যায়, তা হল—
[i] ভৌগোলিক অবস্থান,
[ii] গাঙ্গেয় নদীবিধৌত উর্বর মৃত্তিকা, যা অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটায়,
[iii] উন্নত ব্যাবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্থলপথ ও নৌপথের (গঙ্গা, শোন ও গণ্ডক) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা কাজ করেছিল।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন