ব্রিটিশ রাজত্ব এবং বিদ্রোহীরা (1857-এর মহাবিদ্রোহ এবং এর বিবরণ)
সঠিক উত্তরটি বাছাই করো। প্রশ্নমান 1
1. ওয়াজিদ আলি শাহ নবাব ছিলেন—
(a) বাংলার
(b) বিহারের
(c) অবধ-এর
(d) মাদ্রাজের
উত্তর: (c) অবধ-এর
2. সতীদাহ প্রথা বিলোপ হয়
(a) 1789 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1829 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1856 খ্রিস্টাব্দে
(d) 1861 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (b) 1829 খ্রিস্টাব্দে।
3. 'সামারি সেটেলমেন্ট' নামে ইংরেজ ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা চালু হয়—
(a) 1829 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1856 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1860 খ্রিস্টাব্দে
(d) 1870 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (b) 1856 খ্রিস্টাব্দে।
4. 'ইন মেমোরিয়াম' অঙ্কন করেন=
(a) আউটরাম
(b) হেনরি লরেন্স
(c) জোসেফ নোয়েল পেটন
(d) থমাস জোন্স বার্কার
উত্তর: (c) জোসেফ নোয়েল পেটন।
5. সিপাহি বিদ্রোহে সিপাহিরা যে রাইফেল ব্যবহার করত, তা হল-
(a) এনফিল্ড
(b) একে 47
(c) এ আর 7
(d) এ আর 15
উত্তর: (a) এনফিল্ড।
নীচের প্রশ্নগুলি একটি শব্দে / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও। প্রশ্নমান 1
1. ফিরিঙ্গি বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: ফিরিঙ্গি একটি পারসি শব্দ, সাধারণত অপমানসূচক ভঙ্গিতে মূলত বিদেশিদের উদ্দেশে ব্যবহার করা হত।
2. Bell of arms কী ?
উত্তর: সিপাহি বিদ্রোহের সময় ঘণ্টার মতো দেখতে অর্থাৎ, শঙ্কু আকৃতির অস্ত্রাগার ছাউনি, যেখানে ছোটো মাপের অস্ত্র সুসজ্জিত রাখা হত, তাকে Bell of arms বলে।
3. রেসিডেন্ট কাদের বলা হত ?
উত্তর: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণকারী রাজ্যে মোতায়েন গভর্নর জেনারেলের প্রতিনিধিকে রেসিডেন্ট বলা হত।
4. বির্জিস কাদির কে ছিলেন ?
উত্তর: বির্জিস কাদির ছিলেন অবধ রাজ্যের নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ-এর পুত্র। যিনি সিপাহি বিদ্রোহের সময় নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন ৪০টি শব্দের মধ্যে লেখো। প্রশ্নমান 4
1. দেশীয় কলা এবং সাহিত্য কীভাবে 1857 খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল ?
উত্তর: কলা এবং সাহিত্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক রচনা 1857 খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল। বিদ্রোহের নেতাদের নায়কোচিত ছবি তুলে ধরে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আবেগকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। রানি লক্ষ্মীবাইকে নিয়ে বহু মহাকাব্য রচিত হয়। যেমন—সুভদ্রা কুমারী চৌহানের লেখায় তাঁকে একজন বীর যোদ্ধার সঙ্গে তুলনা করা হয়। তৎকালীন বহু জনপ্রিয় মুদ্রণে রানি লক্ষ্মীবাইকে প্রায়শই হাতে তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ায় চেপে সেনার পোশাকে দেখা গেছে। এই ধরনের মুদ্রণ বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ দেশের প্রথম স্বাধীনতার আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হয়। এখানে সমাজের সমস্ত শ্রেণির মানুষ একত্রিত হয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। এইভাবে বিদ্রোহের বিভিন্ন চিত্র জাতীয়তাবাদী কল্পনাশক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
2. 1857 খ্রিস্টাব্দের সময় ব্রিটিশরা কীভাবে তালুকদারদের ক্ষমতা খর্ব করেছিলেন ?— আলোচনা করো ।
উত্তর: লর্ড ডালহৌসি নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে তালুকদারদের ক্ষমতা খর্ব করেন—
[i] তালুকদারদের জায়গির বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং তাঁদের ব্যাপক সম্পদহানি হয়।
[ii] তালুকদারদের সার্বভৌমত্ব ব্রিটিশ সরকারের সহ্য হচ্ছিল না।
[iii] নবাবের সিংহাসনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত তালুকদারদের নিরস্ত্র করা হয় এবং তাদের দুর্গসমূহ ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়।
[iv] Summary Settlement নামে নয়া ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা বলবৎ করে তাদের রাজস্বের বৃহৎ অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়। মাঝখান থেকে তালুকদারদের সরিয়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি ভূমি বন্দোবস্ত করা হয়।
[v] তালুকদারদের ক্ষমতা খর্ব হওয়ায় অযোধ্যার সামাজিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়।
3. কেন প্রাদেশিক শাসকরা মহাবিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এসেছিল ? তাদের নেতৃত্বের ফলস্বরূপ কী হয়েছিল ?
উত্তর: নিম্নলিখিত কারণে প্রাদেশিক শাসকরা মহাবিদ্রোহে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন—
• 1857 খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহে ভারতীয় নেতৃত্বের প্রকৃতি ও স্বরূপ—
[i] কর্তৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সিপাহি বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাটের মুখাপেক্ষী হয়। সিপাহিরা মোগল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরকে দিল্লিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে বাধ্য করেন। বাহাদুর শাহ প্রথমে নেতৃত্ব দানে অসম্মত হলেও মোগল শক্তি পুনরুত্থানের স্বার্থে বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেন।
[ii] কোম্পানির স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের ফলে কানপুর থেকে পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও-এর দত্তকপুত্র নানা সাহেবের নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। হুত সাম্রাজ্যের পুনরুদ্ধারের আশায় রানি লক্ষ্মীবাই ঝাঁসি থেকে নেতৃত্ব দেন।
[iii] বিহারের আরা থেকে স্থানীয় জমিদার কুনওয়ার সিং বিদ্রোহের নেতৃত্বের ভার কাঁধে তুলে নেন। শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতার অজুহাতে নবাব ওয়াজিদ আলি শাহকে অযোধ্যা থেকে সিংহাসনচ্যুত করলে সেখানকার জনগণ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে তাঁর যুবক পুত্র বির্জিস কাদিরকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।
মহাবিদ্রোহে ভারতের প্রাদেশিক শাসকরা নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এলে—
[i] স্থানীয় এলাকায় ব্রিটিশ বিরোধী জনমত গঠিত হয়। স্থানীয় মানুষেরা বিদ্রোহে সামিল হয়।
[ii] এর ফলে এই বিদ্রোহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে এই বিদ্রোহ এক অন্য মাত্রা পায়। দেশের বিভিন্ন স্তরের বঞ্চিত মানুষ এই বিদ্রোহে শামিল হয়। ফলে সিপাহি বিদ্রোহ মহাবিদ্রোহে পরিণত হয়।
4. তুমি কি মনে করো, অবধের নবাবের সঙ্গে ব্রিটিশরা অমানবিক ছিল ?
উত্তর: অবধের নবাবের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার নানাভাবে অমানবিক ব্যবহার করে, যেমন—
[i] 1856 খ্রিস্টাব্দের 13 ফেব্রুয়ারি অপশাসনের অজুহাতে অযোধ্যা দখল করা হয়।
[ii] অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলি শাহকে সিংহাসনচ্যুত করে বার্ষিক ভাতার বিনিময়ে কলকাতায় নির্বাসনে পাঠানো হয়। দরবারের সমস্ত কর্মচারী, গায়ক, কবি, নর্তকী, জমিদার, তালুকদার সকলেই কর্মহারা হয়ে পড়েন।
[iii] তালুকদারদের জায়গির বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং তাঁদের ব্যাপক সম্পদহানি হয়।
[iv] তালুকদারদের সার্বভৌমত্ব ব্রিটিশ সরকারের সহ্য হচ্ছিল না।
[v] নবাবের সিংহাসনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত তালুকদারদের নিরস্ত্র করা হয় এবং তাদের দুর্গসমূহ ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়।
[vi] Summary Settlement নামে নয়া ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা বলবৎ করে তাদের রাজস্বের বৃহৎ অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়। তালুকদারদের মাঝখান থেকে সরিয়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি ভূমি বন্দোবস্ত করা হয়।
[vii] ব্রিটিশ সরকার মনে করেছিলেন, এর ফলে কোম্পানির রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং কৃষকরা তালুকদারদের শোষণ থেকে মুক্ত হবেন।
[viii] তালুকদারদের ক্ষমতা খর্ব হওয়ায় অযোধ্যার সামাজিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়।
5. মহাবিদ্রোহের ফলে বিকল্প শাসনব্যবস্থার পরিকাঠামো কীভাবে গঠন করেছিল, এই সম্পর্কে তুমি কী জানো ?
উত্তর: মহাবিদ্রোহের মধ্য দিয়ে স্থানীয়ভাবে রাজা, জমিদার অথবা নবাবদের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল তা বলা বাহুল্য । তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডে।
[i] দিল্লি, লখনউ, কানপুরে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বিদ্রোহীরা এক বিকল্প কর্তৃত্ব এবং প্রশাসন গঠনের চেষ্টা করেছিল।
[ii] তাদের এই চেষ্টা পুরোপুরি সফল না হলেও এটি বোঝা যায়, তারা তাদের দরবারি সংস্কৃতি এবং বিকেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাইছিল।
[iii] নিত্যনতুন পদে নিয়োগ ও বলপূর্বক অতিরিক্ত ভূমিরাজস্ব আদায় করা হয়। অন্যদিকে সৈন্যদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা, লুঠতরাজ বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি ব্রিটিশদের সঙ্গে সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়।
[iv] তাদের যাবতীয় পরিকল্পনা মোগল শাসন থেকে গ্রহণ করা হয়। এই বৈকল্পিক শাসনব্যবস্থা সমস্ত কিছুকে হারিয়ে জগতের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
6. কেন ভারতীয়রা বিদ্রোহের পিছনে গুজবকে অতি তাড়াতাড়ি মেনে নিয়েছিল ?
উত্তর: 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার মূলে গুজব ছিল অন্যতম কারণ। সাধারণ মানুষ ব্রিটিশ বিরোধী বিভিন্ন গুজবের বশবর্তী হয়ে বিদ্রোহে যোগ দেয়। কারণ—
[i] পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ভারতীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের মূলে আঘাত হানে। ফলে সাধারণ ভারতীয়রা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। যেমন— ইংরেজি ভাষার প্রচলন ও সতীদাহপ্রথা বিলোপ আইন, হিন্দু বিধবা বিবাহকে বৈধতা দান ইত্যাদি ।
[ii] দত্তক প্রথাকে বেআইনি বলে ঘোষণা ও কুশাসনের অজুহাতে ঝাঁসি ও অবধের মতো রাজ্যগুলি দখল করলে মানুষ ইংরেজদের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী নীতির সঙ্গে পরিচিত হয়। [iii] বর্বর ভারতীয়দের সভ্য করে তোলার লক্ষ্যে খ্রিস্টান মিশনারিরা ভারতীয়দের ধর্মান্তরিত করতে শুরু করলে ব্রিটিশ সম্বন্ধে ভারতীয়রা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় গুজব ছড়ালে পূর্বের ব্রিটিশ অত্যাচারের অভিজ্ঞতা থেকে ভারতীয়রা গুজবগুলি সত্যি বলে ভাবতে শুরু করেন। এই অবস্থায় এনফিল্ড রাইফেলের ঘটনা ভারতীয়দের ক্ষোভে ঘৃতাহুতি দেয়। তখন থেকে তারা ব্রিটিশ সরকারের সমস্ত কাজ বা উদ্যোগ সম্পর্কিত সব গুজবই সত্যি বলে মেনে নেয়।
7. অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করো ।
উত্তর: 1798 খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির প্রবর্তন করেন। যে সমস্ত ভারতীয় রাজন্যবর্গ সরকারের সঙ্গে মিত্রতায় আবদ্ধ হবে, তাদের নিম্নলিখিত শর্তসমূহ মেনে চলতে হবে—
[i] ব্রিটিশ সরকার মিত্র রাজ্যগুলিকে অভ্যন্তরীণ সংকট ও বহিরাক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।
[ii] মিত্র রাজ্যে ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনী মোতায়েন থাকবে।
[iii] ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ভরণপোষণের ভার উক্ত মিত্র রাজ্যের ওপর থাকবে।
[iv] মিত্র রাজ্য ব্রিটিশের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো রাজ্যের সঙ্গে কোনোপ্রকার সন্ধি বা যুদ্ধ করতে পারবে না।
৪. ইংরেজরা বিদ্রোহীদের দমন করার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল ?
উত্তর: বিদ্রোহীদের দমন করবার জন্য ইংরেজদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপগুলি নিম্নে আলোচিত হল—
[i] বিদ্রোহীদের দমন করতে 1857 খ্রিস্টাব্দের মে এবং জুন মাসে অসংখ্য আইন পাস করা হয়। ফলস্বরূপ গোটা উত্তর ভারতে সামরিক আইন বলবৎ হয়।
[ii] ব্রিটিশ অফিসার ছাড়াও সাধারণ ইংরেজদের বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ভারতীয়দের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়। একটি নির্দিষ্ট শাস্তিই বলবৎ করা হয় সকল বিদ্রোহীদের জন্য যা ছিল মৃত্যুদণ্ড।
[iii] বিদ্রোহ দমন করতে সরকার ব্যাপক সামরিক বলপ্রয়োগ করে। ইংল্যান্ড থেকে আরও অতিরিক্ত সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসা হয়।
[iv] দিল্লি দখলের অভিপ্রায় নিয়ে পাঞ্জাব এবং কলকাতা দুদিক থেকে আক্রমণ করা হয়। ব্যাপক সংঘর্ষের পর 1857 খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি দখল হয়।
9. 1857 খ্রিস্টাব্দের ঘটনাবলির জন্য ধর্মীয় বিশ্বাসের ভূমিকা কতদূর ছিল সে সম্পর্কে আলোচনা করো ।
উত্তর: কোম্পানির শাসনে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা জন্মায় যে, ব্রিটিশ সরকার তাদের জাতধর্ম বিনষ্ট করে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করতে চাইছে। তাই তৎকালীন সময়ে যে-কোনো রকমের গুজব বা ভবিষ্যদ্বাণীকে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে নেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,
[i] বিদ্রোহের প্রাক্কালে একটি গুজব ওঠে, এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ গোরু ও শুকরের চর্বি মেশানো, যা দাঁতে কেটে বন্দুকে বারুদ ভরতে হত।
[ii] এ ছাড়া গুজব ছিল ব্রিটিশ সরকার আটায় গোরু ও শূকরের হাড়ের চূর্ণ মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করছে।
[iii] এই সমস্ত গুজব পরবর্তীকালে বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণে পরিণত হয়।
[iv] অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যাবলি যেমন—সতীদাহ প্রথার অবসান, বিধবাবিবাহ প্রবর্তন বা ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ইত্যাদি রক্ষণশীল সাধারণ মানুষ সন্দেহের চোখে দেখেছিল। তাদের মনে হয়েছিল, ব্রিটিশ শাসনে সাধারণের জীবনযাপন, রীতিনীতি এবং চিন্তাভাবনা বিনষ্ট হচ্ছে।
10. তুমি কি মনে করো, 1857 খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা করেছিল ?
উত্তর: আমি মনে করি না 1857-এর বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ভারতে কোনো জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। কারণ—
[i] এই বিদ্রোহ গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে সংঘটিত হয়নি। তা হয়েছিল স্থানীয়ভাবে ও বিক্ষিপ্তভাবে।
[ii] এই বিদ্রোহে কোনো জাতীয় নেতা, জাতীয় স্লোগান বা জাতীয় উদ্দেশ্য ছিল না। ফলে তা কখনই জাতীয় আন্দোলনরূপে গড়ে ওঠেনি।
[iii] এই বিদ্রোহ যেমন গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে সংঘটিত হয়নি, তেমনি সর্বস্তরের মানুষ এই বিদ্রোহে যোগদান করেনি। বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন ক্ষোভ বিক্ষোভ ছিল।
[iv] আবার একথা সত্য যে, যেসময় এই বিদ্রোহ হয়েছিল, সেসময় ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় চেতনা অনুপ্রবেশ করেনি। কারণ জাতীয় চেতনা জাগরণের জন্য যে শিক্ষার (আধুনিক শিক্ষা) প্রয়োজন ছিল, তা ভারতীয়দের মধ্যে ছিল না।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন