জরুরি অবস্থার ঘোষণা থেকে আমরা কী শিক্ষালাভ করেছি ?
উত্তর: ভারতে জরুরি অবস্থা জারির ফলে ভারতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয় এবং ভারতীয় রাজনীতির প্রধান গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণকে বলপূর্বক রোধ করা হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতার পর কেন্দ্রীকরণ ঘটিয়ে সমগ্র দেশেই প্রায় কেন্দ্রীয় সরকার তার এককেন্দ্রিক ক্ষমতার বিস্তার ঘটায়। ফলে জরুরি অবস্থাচলাকালীন সময়ে গণতন্ত্র বিনষ্ট হয় ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে। তবে পর্যবেক্ষকগণ এমনটাই দাবি করেন,
[i] গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা : জরুরি অবস্থার সময়ে গণতন্ত্রের নিষ্ক্রিয় হওয়ার ঘটনা ঘটলেও পরবর্তী সময়ে অল্পকালেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিতও হয়েছিল, যা প্রমাণ করে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি অসম্ভব এবং কাম্যও নয়।
[ii] সংবিধানের অস্পষ্টতা দূরীকরণ : জরুরি অবস্থাকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবিধানে ধারাগুলির অস্পষ্টতা প্রমাণিত হয় জরুরি অবস্থাকালীন পরিস্থিতিতে। তাই বর্তমান সংবিধানে জরুরি অবস্থা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা ‘সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে জারি করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট দ্বারা অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
[iii] অধিকার সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতনতা : জরুরি অবস্থায় নাগরিকদের জীবন ও অধিকারকে যেভাবে খর্ব করা হয়েছিল সেই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সাধারণ নাগরিক নিজেদের স্বাধীনতা ও অধিকার প্রসঙ্গে সচেতন হন। সর্বোপরি জরুরি অবস্থার পর নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন টেনে এবং সুরক্ষা সুনিশ্চিত প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিচারব্যবস্থা।
[iv] বিচার বিভাগের সক্রিয়তা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি : জরুরি অবস্থা চলাকালে বিচার বিভাগ বিশেষত সুপ্রিম কোর্টের কতগুলি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফলে জরুরি অবস্থাত্তোর পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগ নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সচেতন হয়ে ওঠে। নাগরিক অধিকারের গুরুত্ব বিবেচনা করে 1976 খ্রিস্টাব্দে People's Union for The Civil Liberties and Democratic Rights বা PUCLDR গড়ে ওঠে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন