সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

কৃষক, জমিদার ও রাষ্ট্র: কৃষিভিত্তিক সমাজ এবং মোগল সাম্রাজ্য (আনুমানিক ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দী)

কৃষক, জমিদার ও রাষ্ট্র: কৃষিভিত্তিক সমাজ এবং মোগল সাম্রাজ্য (আনুমানিক ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দী)

Class 12 Suggestion 2023

নীচের প্রশ্নগুলি একটি শব্দে / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও।  প্রশ্নমান 1

1. পাহিকাস্তা বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: মোগল যুগে যে-সমস্ত কৃষক অন্য কোনো গ্রাম বা অঞ্চল থেকে এসে জমি চাষ করত, অর্থাৎ যারা স্থানীয় কৃষক নয়, তাদের বলা হত পাহিকাস্তা।

2. আইন-ই-আকবরি গ্রন্থে কেন তামাকের উল্লেখ নেই ?

উত্তরঃ আইন-ই-আকবরি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় 1598 খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু তামাক গাছ বা পাতাটির প্রথম হদিস পাওয়া যায় সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে; সেই কারণে এই গ্রন্থে তামাকের উল্লেখ নেই।

3. মিরাশ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: মোগল যুগে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন কারিগর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের সেবা বা পরিসেবার বিনিময়ে কিছু জমি জায়গা বংশানুক্রমিকভাবে ভোগদখল করত। এই কারিগরদের বলা হত মিরাশ।

4. সপ্তদশ শতাব্দীতে ভারত থেকে রপ্তানিকৃত একটি বনজ পণ্যের নাম লেখো।

উত্তর: সপ্তদশ শতকে ভারত থেকে রপ্তানিকৃত একটি বনজ পণ্য ছিল লাক্ষা ।

5. লোহানী কারা ছিল ?

উত্তরঃ মোগল যুগের এক বন্য জনজাতি ছিল লোহানী, যারা পাঞ্জাবের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বহির্দেশ তথা আফগানিস্তানে ব্যাবসাবাণিজ্য করত।

6. আমিল গুজুর কারা ?

উত্তরঃ মোগল যুগে রাজস্ব আদায়কারীদের ‘আমিল গুজুর বলা হত ।

7. চাচর কী ?

উত্তর: সম্রাট আকবরের আমলে যে-সমস্ত চাষযোগ্যজমি একবার চাষ করার পর 3-4 বছরের জন্য ফেলে রাখা হত, সেই ধরনের জমিগুলিকে বলা হত চাচর।

৪. মোগল যুগে কোন্ কোন্ ফসল বিদেশ থেকে ভারতে আসত ?

উত্তর: মোগল যুগে ভুট্টা, আলু, টোম্যাটো, লংকা, পেঁপে, আনারস প্রভৃতি বিদেশ থেকে ভারতে আসত।

9. মঞ্জিল আবাদি কী ?

উত্তর: মঞ্জিল আবাদি হল আইন-ই-আকবরি গ্রন্থের প্রথম খণ্ড, যাতে রাজপ্রাসাদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

10. সিপহ আবাদি কী ?

উত্তরঃ আইন-ই-আকবরি-র দ্বিতীয় খণ্ড হল সিপহ আবাদি। যেখানে সৈন্য ও নাগরিক প্রশাসন এবং রাজকর্মচারীদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

11. খারবন্দি বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: মোগল যুগে গভীর জঙ্গল ও ঝোপঝাড়পূর্ণ জমিকে খারবন্দি বলা হত।

12. বনকর চুক্তি বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: মোগল যুগে জঙ্গলের বাইরে বসবাসকারী কিছু মানুষ সরকারকে বনের হাতি সরবরাহ করত এবং এদের সঙ্গে সরকারের একটি চুক্তি হত যা ফেশকশ বা বনকর চুক্তি নামে পরিচিত।

13. শাহনাহর খালের খননকার্য কবে শুরু হয় ?

উত্তর: শাহনাহর খালের খননকার্য মোগল সাম্রাজ্য শাহজাহানের আমলে শুরু হয়।

14. কারা পাইক সৈন্য ব্যবহার করত ?

উত্তর: অসমের অহোম রাজারা পাইক সৈন্য ব্যবহার করত।

নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 20টি শব্দের মধ্যে লেখো।  প্রশ্নমান 2

1. মনসবদারি প্রথা বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: মনসবদারি প্রথা : আকবরের সময় মনসবদারি ব্যবস্থা ছিল সামরিক ও বেসামরিক শাসনব্যবস্থার মূলস্তম্ভ। তিনি জায়গিরদার জমির পরিবর্তে বেতন দানের ব্যবস্থা করেন। পরিবর্তে এরা যুদ্ধের সময় সরকারকে সৈন্যবাহিনী দিয়ে সাহায্য করতেন।

2. সুবাদারি ব্যবস্থা কী ?

উত্তর: সম্রাট আকবর শাসনকার্যের সুবিধার্থে সমগ্র মোগল সাম্রাজ্যকে 12টি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন। আবার সুবাগুলিকে কয়েকটি জেলায় আর জেলাগুলিকে কয়েকটি গ্রামে বিভক্ত করেন। গ্রাম ছিল সর্বনিম্ন স্তর। সুবার প্রধানকে সুবেদার বলা হত। এর প্রধান সেনাপতি ছিলেন সিপহশালা। সুবেদারের অধীনস্থ কর্মচারী ছিলেন দেওয়ান, কাজি, বকসি, আমিন, ওয়াকিয়া নবিশ ইত্যাদি। জেলার প্রধানকে ফৌজদার বলা হত। গ্রামে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ছিল, কানুনগো, পাটোয়ারি প্রমুখরা এর তত্ত্বাবধান করতেন।

3. মোগল যুগে রায়ত বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ?

উত্তর: মোগল যুগে কৃষকদের বলা হত রায়ত বা মুজারিয়ান। এ ছাড়া অনেক উৎসে তাদের কিষান বা আসামী বলা হয়েছে। তখন দুধরনের কৃষক ছিল, যারা নিজ এলাকায় জমিচাষ করত, তাদেরকে বলা হত খুদকাস্তা। আর যারা স্থানীয় বাসিন্দা ছিল না, অন্য গ্রাম থেকে এসে চুক্তিবদ্ধভাবে জমি চাষ করত, তাদের পাহিকাস্তা বলা হত ।

4. মোগল যুগে মহিলাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের কী তথ্য পাওয়া যায় ?

উত্তর: সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী: বিভিন্ন নথি থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলা যায় যে, মধ্যযুগে নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হতে পারত। উদাহরণস্বরূপ, পাঞ্জাবের গ্রামীণ নারীদের কথা বলা যায়, যারা স্বামীর মৃত্যুর পর তার ব্যাবসাবাণিজ্যে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে পারত। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, বাংলার রাজশাহী জমিদারিত্ব ছিল এক নারীর হাতে।

5. মোগল সামরিক বাহিনী কটি ভাগে বিভক্ত ও কী কী ?

উত্তর: সামরিক বিভাগ: বিভিন্ন বাহিনী: আকবর তাঁর সৈন্যবাহিনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেন, যেমন—পদাতিক, অশ্বারোহী, গোলন্দাজ, হস্তি প্রভৃতি বাহিনী। সাম্রাজ্যের প্রধান সেনাপতিকে বলা হত মিরবক্‌সি। মিরবহর ছিলেন নৌসেনাপতি। মির অতীশ ছিলেন গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান। বন্দুকধারী সিপাহিদের বলা হত বন্দুকচি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...