কৃষক, জমিদার ও রাষ্ট্র: কৃষিভিত্তিক সমাজ এবং মোগল সাম্রাজ্য (আনুমানিক ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দী)
নীচের প্রশ্নগুলি একটি শব্দে / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও। প্রশ্নমান 1
1. পাহিকাস্তা বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: মোগল যুগে যে-সমস্ত কৃষক অন্য কোনো গ্রাম বা অঞ্চল থেকে এসে জমি চাষ করত, অর্থাৎ যারা স্থানীয় কৃষক নয়, তাদের বলা হত পাহিকাস্তা।
2. আইন-ই-আকবরি গ্রন্থে কেন তামাকের উল্লেখ নেই ?
উত্তরঃ আইন-ই-আকবরি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় 1598 খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু তামাক গাছ বা পাতাটির প্রথম হদিস পাওয়া যায় সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে; সেই কারণে এই গ্রন্থে তামাকের উল্লেখ নেই।
3. মিরাশ বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: মোগল যুগে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন কারিগর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের সেবা বা পরিসেবার বিনিময়ে কিছু জমি জায়গা বংশানুক্রমিকভাবে ভোগদখল করত। এই কারিগরদের বলা হত মিরাশ।
4. সপ্তদশ শতাব্দীতে ভারত থেকে রপ্তানিকৃত একটি বনজ পণ্যের নাম লেখো।
উত্তর: সপ্তদশ শতকে ভারত থেকে রপ্তানিকৃত একটি বনজ পণ্য ছিল লাক্ষা ।
5. লোহানী কারা ছিল ?
উত্তরঃ মোগল যুগের এক বন্য জনজাতি ছিল লোহানী, যারা পাঞ্জাবের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বহির্দেশ তথা আফগানিস্তানে ব্যাবসাবাণিজ্য করত।
6. আমিল গুজুর কারা ?
উত্তরঃ মোগল যুগে রাজস্ব আদায়কারীদের ‘আমিল গুজুর বলা হত ।
7. চাচর কী ?
উত্তর: সম্রাট আকবরের আমলে যে-সমস্ত চাষযোগ্যজমি একবার চাষ করার পর 3-4 বছরের জন্য ফেলে রাখা হত, সেই ধরনের জমিগুলিকে বলা হত চাচর।
৪. মোগল যুগে কোন্ কোন্ ফসল বিদেশ থেকে ভারতে আসত ?
উত্তর: মোগল যুগে ভুট্টা, আলু, টোম্যাটো, লংকা, পেঁপে, আনারস প্রভৃতি বিদেশ থেকে ভারতে আসত।
9. মঞ্জিল আবাদি কী ?
উত্তর: মঞ্জিল আবাদি হল আইন-ই-আকবরি গ্রন্থের প্রথম খণ্ড, যাতে রাজপ্রাসাদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
10. সিপহ আবাদি কী ?
উত্তরঃ আইন-ই-আকবরি-র দ্বিতীয় খণ্ড হল সিপহ আবাদি। যেখানে সৈন্য ও নাগরিক প্রশাসন এবং রাজকর্মচারীদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
11. খারবন্দি বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: মোগল যুগে গভীর জঙ্গল ও ঝোপঝাড়পূর্ণ জমিকে খারবন্দি বলা হত।
12. বনকর চুক্তি বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: মোগল যুগে জঙ্গলের বাইরে বসবাসকারী কিছু মানুষ সরকারকে বনের হাতি সরবরাহ করত এবং এদের সঙ্গে সরকারের একটি চুক্তি হত যা ফেশকশ বা বনকর চুক্তি নামে পরিচিত।
13. শাহনাহর খালের খননকার্য কবে শুরু হয় ?
উত্তর: শাহনাহর খালের খননকার্য মোগল সাম্রাজ্য শাহজাহানের আমলে শুরু হয়।
14. কারা পাইক সৈন্য ব্যবহার করত ?
উত্তর: অসমের অহোম রাজারা পাইক সৈন্য ব্যবহার করত।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 20টি শব্দের মধ্যে লেখো। প্রশ্নমান 2
1. মনসবদারি প্রথা বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: মনসবদারি প্রথা : আকবরের সময় মনসবদারি ব্যবস্থা ছিল সামরিক ও বেসামরিক শাসনব্যবস্থার মূলস্তম্ভ। তিনি জায়গিরদার জমির পরিবর্তে বেতন দানের ব্যবস্থা করেন। পরিবর্তে এরা যুদ্ধের সময় সরকারকে সৈন্যবাহিনী দিয়ে সাহায্য করতেন।
2. সুবাদারি ব্যবস্থা কী ?
উত্তর: সম্রাট আকবর শাসনকার্যের সুবিধার্থে সমগ্র মোগল সাম্রাজ্যকে 12টি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন। আবার সুবাগুলিকে কয়েকটি জেলায় আর জেলাগুলিকে কয়েকটি গ্রামে বিভক্ত করেন। গ্রাম ছিল সর্বনিম্ন স্তর। সুবার প্রধানকে সুবেদার বলা হত। এর প্রধান সেনাপতি ছিলেন সিপহশালা। সুবেদারের অধীনস্থ কর্মচারী ছিলেন দেওয়ান, কাজি, বকসি, আমিন, ওয়াকিয়া নবিশ ইত্যাদি। জেলার প্রধানকে ফৌজদার বলা হত। গ্রামে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ছিল, কানুনগো, পাটোয়ারি প্রমুখরা এর তত্ত্বাবধান করতেন।
3. মোগল যুগে রায়ত বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর: মোগল যুগে কৃষকদের বলা হত রায়ত বা মুজারিয়ান। এ ছাড়া অনেক উৎসে তাদের কিষান বা আসামী বলা হয়েছে। তখন দুধরনের কৃষক ছিল, যারা নিজ এলাকায় জমিচাষ করত, তাদেরকে বলা হত খুদকাস্তা। আর যারা স্থানীয় বাসিন্দা ছিল না, অন্য গ্রাম থেকে এসে চুক্তিবদ্ধভাবে জমি চাষ করত, তাদের পাহিকাস্তা বলা হত ।
4. মোগল যুগে মহিলাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের কী তথ্য পাওয়া যায় ?
উত্তর: সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী: বিভিন্ন নথি থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলা যায় যে, মধ্যযুগে নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হতে পারত। উদাহরণস্বরূপ, পাঞ্জাবের গ্রামীণ নারীদের কথা বলা যায়, যারা স্বামীর মৃত্যুর পর তার ব্যাবসাবাণিজ্যে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে পারত। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, বাংলার রাজশাহী জমিদারিত্ব ছিল এক নারীর হাতে।
5. মোগল সামরিক বাহিনী কটি ভাগে বিভক্ত ও কী কী ?
উত্তর: সামরিক বিভাগ: বিভিন্ন বাহিনী: আকবর তাঁর সৈন্যবাহিনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেন, যেমন—পদাতিক, অশ্বারোহী, গোলন্দাজ, হস্তি প্রভৃতি বাহিনী। সাম্রাজ্যের প্রধান সেনাপতিকে বলা হত মিরবক্সি। মিরবহর ছিলেন নৌসেনাপতি। মির অতীশ ছিলেন গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান। বন্দুকধারী সিপাহিদের বলা হত বন্দুকচি।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন