পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: পাকিস্তানে বারবার সামরিক শাসনের কয়েকটি বিশেষ কারণ আছে।
[i] সামরিক বাহিনীর প্রভাব : সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে এমন একটি ধারণা তৈরি করেছে, এখানে গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে দেশ টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। তা ছাড়া ভারতের ভয় দেখিয়ে পাকিস্তান সমাজের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে।
[ii] এখানকার মুসলিম ধর্মীয় অনুশাসন : পাকিস্তানের সামরিক ব্যবস্থার কর্তারা সেখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যের নিরাপত্তা প্রদান করেছে। সুতরাং সাধারণ মানুষের সামরিক বাহিনীর প্রতিও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র নিজেকে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। ইসলাম ধর্মের মৌলবাদী প্রভাব সেখানে বিদ্যমান। ফলে সমস্ত ঘটনাকে ধর্মের অনুশাসনে বেঁধে রাখা হয়। ধর্মীয় দোহাই দিয়ে বিক্ষোভ আন্দোলন প্রশমিত করা হয়।
[iii] শাসনতান্ত্রিক মনোভাব : সামন্ততান্ত্রিক আভিজাত্য নির্বাচিত সরকারের বদলে সামরিক শাসন আনতে বারবার সাহায্য করেছে।
[iv] দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন : রাজনৈতিক দলগুলির দুর্নীতি, একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার জন্য গণতন্ত্র পাকিস্তানে উপযুক্ত নয়। মৌলবাদী ও সামরিক শাসকরা এই ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করেছে।
[v] আন্তর্জাতিক প্রভাব : আন্তর্জাতিক রাজনীতির বড়ো শক্তিগুলি পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চায়নি, এখানে গণতান্ত্রিক সরকার থাকুক, কারণ স্বৈরতান্ত্রিক বা সামরিক শাসক তাদের স্বার্থের অনুকূল। এ ছাড়া Global Islamic Terrorism, আলকায়দা, ISIS প্রভৃতি জঙ্গিগোষ্ঠীর পাকিস্তানে অস্থিরতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। বর্তমানে পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ। পরমাণু অস্ত্র সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী দখল করতে পারে এই অজুহাতে সামরিক বাহিনী শাসন ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। যাই হোক, এইসব বাধা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সচেতন নাগরিক সমাজ, শিল্পী, লেখক, বুদ্ধিজীবীরা গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে সচেষ্ট হয়েছে। এটি একটি আশার কথা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন