একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে জাতিপুঞ্জের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো ।
উত্তর: প্রস্তাবিত জাতিপুঞ্জের পুনর্গঠন ও সংস্কার সাধনের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেই অনেকে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এটা সম্ভব নয়। কারণ—
[i] সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ আর্থিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির অধিকারী পৃথিবীতে আর কোনো দেশ নেই। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
[ii] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে জাতিপুঞ্জকে সর্বাধিক চাঁদা দিয়ে থাকে, ফলে তার প্রভাব অত্যন্ত বেশি।
[iii] জাতিপুঞ্জের মূল কাঠামো ও প্রধান দফতর যেহেতু মার্কিন ভূমিতেই অবস্থিত, তাই এখানকার কর্মচারী ও আমলাদের ওপর মার্কিন প্রভাব গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত।
[iv] ভেটো ক্ষমতার দ্বারা আমেরিকা তার অনুগত ও বন্ধু দেশগুলির স্বার্থ-পরিপন্থী যে-কোনো প্রস্তাব বাতিল করতে পারে।
[v] এইসব কারণে জাতিপুঞ্জের মহাসচিব নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতোই সর্বাধিক গুরুত্ব পায় । সুতরাং এইসব কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক নেতৃত্বকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা এই মুহূর্তে জাতিপুঞ্জের নেই বলে আমি মনে করি।
এইসব সত্ত্বেও যেহেতু 193টি দেশের সংস্থা UNO, তাই তার দলগত একটা প্রভাব এবং জনমত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে এতগুলি দেশের এই সংস্থা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বিরোধ নিরসনে বড়ো ভূমিকা পালন করছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনার জন্য একই টেবিলে বসাতে জাতিপুঞ্জ সক্ষম হয়েছে। আমেরিকা অবশ্য এটাও স্বীকার করে যে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগ পরস্পর নির্ভরশীলতার যুগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারসাম্য সৃষ্টি করা না-গেলেও তাকে আলোচনার টেবিলে বসাতে জাতিপুঞ্জ সফল হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন