ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অবনতির প্রধান প্রধান কারণসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: পাকিস্তান স্বাধীনতার পরবর্তীকাল থেকেই ভারতের সঙ্গে বৈরিতার মনোভাব পোষণ করে আসছে। জম্মু ও কাশ্মীরের অধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। 1947, 1965, 1971 এবং 2000 খ্রিস্টাব্দে প্রত্যেকবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং এবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে কয়টি যুদ্ধ হয়েছে সবগুলিতে পাকিস্তানকে ভারতের বিক্রমের কাছে শোচনীয়ভাবে হার স্বীকার করতে হয়েছে। এখন আবার ভারতের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে পাকিস্তান অন্যরকম হীনপন্থা অবলম্বন করেছে। এশিয়ার অন্যতম সুপার পাওয়ার চিনের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ভারতের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার চিন্তায় মশগুল, ভারত ও চিনের মধ্যে টানটান উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তাদের যাবতীয় নৌবন্দরগুলি চিনা সেনাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। লক্ষ্য একটাই, যাতে চিন পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতকে আক্রমণ করতে পারে ও পর্যুদস্ত করতে পারে। পাকিস্তানের হাতে যে সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্রের ভাণ্ডার মজুত রয়েছে এ সবই চিনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের স্মারক হিসেবে চিনের কাছ থেকে পাওয়া। পাকিস্তান ও চিন যদি একযোগে ভারত আক্রমণ করে তাহলে দুটি দেশই পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। কারণ অধুনা ভারত পৃথিবীর চতুর্থ সামরিক শক্তি। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইংলান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইজরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি বৃহৎশক্তি, চিনের অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করার কৌশলে তিতিবিরক্ত এবং তারা যে শুধু ভারতকে কৌশলগত সাহায্য করবে তাই নয় প্রয়োজনে ভারতের হয়ে অস্ত্র ধারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবচাইতে অবাক করা ব্যাপার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এর পরবর্তী সময়ে দুই মহাশক্তির যুযুধান দেশ অমেরিকা ও রাশিয়া ভারতকে সামরিকভাবে সমর্থন করার প্রশ্নে একজোট হয়েছে। তাই রাশিয়া যেমন ভারতের অসময়ের বন্ধু হিসেবে অত্যাধুনিক S-400 ক্ষেপণাস্ত্র জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণ করছে অপরদিকে আমেরিকা তাদের জার্মানিতে নিযুক্ত অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সেনাবাহিনীকে ভারত মহাসাগরে টহল দিতে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন অবস্থা এমনই যে সাম্রাজ্যবাদের প্রতিভূ চিনা লিবারেশন আর্মিকে ভারতের ভূখণ্ড পরিত্যাগ পূর্বক ‘ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ান, নীতি গ্রহণ করতে হবে, না হলে চিন ও পাকিস্তানের পতন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন