সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

ভারতের পারমাণবিক নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী উল্লেখ করো।

প্রিভিপার্স কী ? এটি বিলোপের তিনটি কারণ আলোচনা করো। ভারতের পারমাণবিক নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী উল্লেখ করো।


সঠিক উত্তর বেছে নাও।  1 × 10 = 10

1. পেরেস্ত্রৈকা শব্দের অর্থ—

(a) রাজনৈতিক সংস্কার

(b) পুনর্গঠন

(c)উদারতা

(d) কোনোটিই নয়

উত্তর: (b) পুনর্গঠন।

2. সার্ক-এর পর্যবেক্ষক দেশ হল—

(a) কোরিয়া এবং চিন

(b) রাশিয়া এবং চিন

(c) জাপান ও চিন

(d) উভয়ই সঠিক

উত্তর: A ও C উভয়ই সঠিক।

3. ভারত কিয়োটো প্রটোকলে স্বাক্ষর করে—

(a) 1992 খ্রিস্টাব্দে

(b) 1993 খ্রিস্টাব্দে

(c) 1995 খ্রিস্টাব্দে

(d)1997 খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: (d) 1997 খ্রিস্টাব্দে।

4. জাতিপুঞ্জের পরিবেশ কর্মসূচির সদর দফতর—

(a) নাইরোবিতে

(b) জেনেভাতে

(c) নিউইয়র্কে

(d) কিয়োটোতে

উত্তর: (a) নাইরোবিতে।

5. Global village কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন—

(a) কোফি অন্নান

(b) মার্শাল টিটো

(c) হার্বাট মার্শাল ম্যাকলুহান

(d) বারাক ওবামা

উত্তর: (c) হার্বাট মার্শাল ম্যাকলুহান।

6. 1960-এর দশকে চরম খাদ্য সংকট ছিল—

(a) বিহারে

(b) ত্রিপুরায়

(c) হরিয়ানায়

(d) উত্তরপ্রদেশে

উত্তর: (a) বিহারে।

7. ভারতে পঞ্চশীল নীতি অনুকরণ করা হয়—

(a) ব্রিটেন থেকে

(b) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে

(c) চিন থেকে

(d) ইন্দোনেশিয়া থেকে

উত্তর: (d) ইন্দোনেশিয়া থেকে।

৪. নকশালবাড়ি আন্দোলন শুরু হয়—

(a) 1967 খ্রিস্টাব্দে

(b) 1966 খ্রিস্টাব্দে

(c) 1965 খ্রিস্টাব্দে

(d) 1960 খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: (a) 1967 খ্রিস্টাব্দে।

9. রাজীব লাঙ্গোয়াল চুক্তি পরিচিত—

(a) পাঞ্জাব চুক্তি হিসেবে

(b) মিজো চুক্তি হিসেবে

(c) রাজীব-শিখ চুক্তি হিসেবে

(d) কোনোটিই নয়

উত্তর: (a) পাঞ্জাব চুক্তি হিসেবে।

10. Hindu Pad Padshahi গ্রন্থের লেখক—

(a) জয়প্রকাশ নারায়ণ

(b) বিনায়ক দামোদর সাভারকর

(c) নরেন্দ্র দেব

(d) অতুলপ্রসাদ

উত্তর: (b) বিনায়ক দামোদর সাভারকর।

এক শব্দে বা বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।  1 x 20 = 20

11. The Cold War গ্রন্থটির লেখক কে ?

উত্তর: The Cold War গ্রন্থটির লেখক হলেন ওয়াল্টার লিপম্যান ।

12. Look East Policy-র রূপকার কে ?

উত্তর: Look East Policy-র রূপকার হলেন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও।

13. কবে ‘NATO' গঠিত হয় ?

উত্তর: 1949 খ্রিস্টাব্দে NATO গঠিত হয়।

14. কাকে ভারতের 'মিসাইল ম্যান' বলা হয় ?

উত্তর: প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালামকে ভারতের মিসাইল ম্যান বলা হয়।

15. আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের বিচারপতিরা কত বছরের জন্য নির্বাচিত হয় ?

উত্তর: আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের বিচারপতিরা 9 বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

16. UNICEF কবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পায় ?

উত্তর: 1965 এবং 2021 খ্রিস্টাব্দে UNICEF নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে।

17. দক্ষিণ এশিয়ার কোন্ রাষ্ট্রে সুলতানি শাসন ছিল ?

উত্তর: দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপে সুলতানি শাসন ছিল।

18. WWEN-এর পুরো নাম লেখো।

উত্তর: WWFN-এর পুরো নাম- World Wildlife Fund for Nature |

19. WSF-এর পুরো নাম লেখো।

উত্তর: WSF-এর পুরো নাম- World Social Forum |

20. অমৃতা প্রিতম কোন্ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ?

উত্তর: অমৃতা প্রিতম নাগমণি মাসিক পত্রিকার সম্পাদিকা ছিলেন।

21. জিন্দানামা গ্রন্থের লেখক কে ?

উত্তর: জিন্দানামা গ্রন্থের লেখক ছিলেন ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ।

22. নীতি আয়োগ কবে গঠিত হয় ?

উত্তর: 1 জানুয়ারি, 2015 খ্রিস্টাব্দে নীতি আয়োগ গঠিত হয়।

23. All Party Hill Leaders Conference কবে হয় ?

উত্তর: All Party Hill Leaders Conference 1960 খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়।

24. No First Use Policy কী ?

উত্তর: No First Use Policy-এর অর্থ হল পরমাণু শক্তিকে কখনোই মারণাস্ত্রের কাজে প্রথম ব্যবহার না করা।

25. ভারত-পাক খারাপ সম্পর্কের কারণ কী ?

উত্তর: ভারত-পাক খারাপ সম্পর্কের অন্যতম কারণ কাশ্মীর সমস্যা।

26. স্বাধীন ভারতের প্রথম শ্রমমন্ত্রী কে ছিলেন ?

উত্তর: স্বাধীন ভারতের প্রথম শ্রমমন্ত্রী ছিলেন জগজীবন রাম।

27. কবে আইনসভার মেয়াদ পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা হয় ?

উত্তর: পঞ্চম লোকসভার সময় জরুরি অবস্থার কারণে ভারতে আইনসভার মেয়াদ ছয় বছর করা হয়।

28. মিজো ন্যাশানাল ফ্রন্ট কে গঠন করেন ?

উত্তর: লালডেঙ্গা মিজো ন্যাশানাল ফ্রন্ট গঠন করেন।

29. কোন্ প্রধানমন্ত্রীর সময় নতুন অর্থনৈতিক নীতি চালু হয় ?

উত্তর: প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও-এর আমলে নতুন অর্থনৈতিক নীতি চালু হয়।

30. কবে শিখ বিরোধী দাঙ্গা হয় ?

উত্তর: 1984 খ্রিস্টাব্দে শিখ বিরোধী দাঙ্গা হয়।

সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (40টি শব্দের মধ্যে )  2 x 5 = 10

31. ইতিহাসের বৃহৎ গ্যারেজ বিক্রয় বলতে তুমি কী বোঝো ?

উত্তর: অভিঘাত বা Shock Therapy প্রয়োগের ফলস্বরূপ রাশিয়ায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রায় 90 শতাংশ শিল্প সংস্থা বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে (ব্যক্তি বা কোম্পানি) চলে যায়। এবং পরিবর্তে প্রবর্তিত হয় বাজার অর্থনীতি। এই বৃহৎ শিল্প-সংস্থার বিক্রি বা বিলুপ্তি ইতিহাসে বৃহৎ গ্যারেজ বিক্রয় নামে পরিচিত হয়।

32. বিশ্ব উন্নায়ন বলতে কী বোঝো ?

উত্তর : বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের স্তর বিশেষত কার্বন-ডাইঅক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFCs) ইত্যাদির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে সূর্য থেকে ভূপৃষ্ঠে পতিত তাপ বিকিরিত হয়ে বায়ুমণ্ডলে সূর্য ফিরে যেতে পারে না। ফলে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একেই বিজ্ঞানীরা বিশ্ব উন্নায়ন বা Global Warming বলে থাকেন।

33. গ্রিনহাউস সমস্যা বলতে কী বোঝায় ?

উত্তর: শীতের হাত থেকে উদ্ভিদকে বাঁচানোর জন্য নির্মিত বিশেষ কাচঘরকে গ্রিনহাউস বলা হয়ে থাকে। এর প্রভাব বলতে বোঝায় কোনো গ্রহের আবহমণ্ডলের নিম্নস্তরে সূর্যতাপ আটক হয়ে পড়ার ঘটনা। গ্রিনহাউস প্রভাবের ফলে যে গ্যাস তৈরি হয় তাকে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়। এই গ্যাসের প্রধান সমস্যা হল বায়ুমণ্ডলের কার্বনডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে উত্তাপ বৃদ্ধি।

34. ফজল আলি কমিশন কী ?

উত্তর: স্বাধীনতা লাভের পরবর্তীকালে তদানীন্তন ভারত সরকার ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য 1953 খ্রিস্টাব্দের 22 ডিসেম্বর তিন সদস্যবিশিষ্ট যে কমিশন গঠন করে, তা রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন নামে পরিচিত। এই কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফজল আলি। তার নামানুসারে এই কমিশনকে ফজল আলি কমিশনও বলা হয়। । কমিশনের অপর দুই সদস্য ছিলেন কে এম পানিকর ও হৃদয়নাথ কুঞ্জর।

35. মহলানবিশ মডেল কী ?

উত্তর: দ্বিতীয় পরিকল্পনার সময়কাল থেকে পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ মূল ও ভারী শিল্পের উন্নয়নের ওপরেই গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন যে, এই সমস্ত শিল্প সুগঠিত হলেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের শিল্প আপনা থেকেই গড়ে উঠবে এবং ফলে আয় ও নিয়োগ সৃষ্টি হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এটিই হল মহলানবিশ মডেলের মূল কথা। এই মডেল অনুসরণ করে স্থির করা হয় যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অভ্যাস ছেড়ে মূলধনি দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

অনধিক 60টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।  3x2 = 6

36. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ASEN-এর 4টি প্রভাব লেখো।

উত্তর: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আসিয়ানের প্রভাব হল—

[i] আসিয়ানের বিদেশমন্ত্রীগণ 1971 খ্রিস্টাব্দে মিলিত হয়ে 'শান্তি, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পরমাণু অস্ত্রমুক্ত থাকার গ্যারান্টি পায়।

[ii] 1997 খ্রিস্টাব্দে আসিয়ানের ব্যাংকক সম্মেলনে সদস্য দেশগুলি ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পরমাণুমুক্ত অঞ্চল চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলির দায়বদ্ধতার কথা বলা হয়।

[iii] আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলি কর্তৃক ASEAN Vision 2020 গ্রহণ করা হয় সর্বশিক্ষার ঘোষণা অনুসারে। এই ভিশনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রগতিমূলক চিন্তাধারাকে সামনে রেখে কাজ করার অঙ্গীকার করার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর প্রভাব লক্ষ করা যায়।

[iv] আসিয়ান নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতা বৃদ্ধি করার জন্য গঠন করে ASEAN Security Council যা বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক জোটকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে বাধা দান করতে পারে। এতে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে।

37. 1991 খ্রিস্টাব্দে ঘোষিত নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার নীতির চারটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: নয়া অর্থনৈতিক নীতির প্রধান চারটি বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

[i] বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন : আমদানিতে পরিমাণগত বাধানিষেধ তুলে দেওয়া হয় পরিকাঠামোগত সংস্কারের ফলে। রফতানি প্রক্রিয়ায় সংস্কারসাধন করা হয় শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ।

[ii] বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি : বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরাসরি 51 শতাংশ পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারবে 48টি অগ্রাধিকারভুক্ত শিল্পে। এ ছাড়া মূলধনিদ্রব্য ও ধাতু বিষয়ক শিল্পে, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন ইত্যাদি শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

[ii] বেসরকারি উদ্যোগ : বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য 2001 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কয়লা ও লিগনাইট, খনিজ তেল, অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ ক্ষেত্রকেও মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ভারতে। এককথায়, সরকারি ক্ষেত্রের সংকোচন করে বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়।

[iv] আর্থিক নীতি পরিবর্তন : বেসরকারি ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের ব্যাংক খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়, ব্যাংকের ব্রাঞ্চ লাইসেন্স প্রথার উদারীকরণের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া দুর্বল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিকে সাহায্য প্রদানের কথা বলা হয়।

অনধিক ৪০টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।  4x6 = 24.

38. সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের জন্য গর্বাচেভ কতখানি দায়ী ?

উত্তর: 1917 খ্রিস্টাব্দে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম হয়। রাষ্ট্রটি 15টি প্রজাতন্ত্র বা রিপাবলিক নিয়ে গড়ে ওঠে। সারা পৃথিবীকে অবাক করে সাফল্যের চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে যায়। ঠান্ডা যুদ্ধ কালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল আমেরিকা বিরোধী সমাজতান্ত্রিক শিবিরের প্রধান নেতা। তার নেতৃত্বে পৃথিবী দ্বিমেরু বিশ্বে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু মাত্র 74 বছর পরে 1991 খ্রিস্টাব্দে তার পতন হয়। অবশ্য সোভিয়েত ইউনিয়নের মৃত্যু 15টি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। সোভিয়েতের এই অকাল মৃত্যুর পশ্চাতে গর্বাচেভকে বিশেষভাবে দায়ী করা হয়।

• গর্বাচেভের দায়িত্ব: সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মিখাইল গর্বাচেভ সর্বাধিক দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। কারণ, তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ও নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হন। দেশের পরিস্থিতি না বুঝেই হঠাৎ অর্থহীন সংস্কারে হাত দেন। আর সেই সংস্কারসাধন দেশের বড়ো বিপদ ডেকে আনে, সেই বিপদ মোকাবিলা করার ক্ষমতা গর্বাচেভের ছিল না। কারণ তখন তিনি আর্থিক, রাজনৈতিক ক্ষমতা জনগণের হাতে তুলে দিয়েছেন। ফলে পার্টি ও সরকারের দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যায়, সমাজতন্ত্রের নেতিবাচক দিকগুলি প্রকাশ হয়ে পড়ে। তা ছাড়া জনগণের . বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত হয়।

গর্বাচেভ বিভিন্ন আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের চলে আসা ব্যবস্থার পরিবর্তে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা পুনর্গঠন না করেই পুরাতন ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছিলেন, ফলে তাঁর সংস্কার প্রক্রিয়াটি হয়ে ওঠে পুরোপুরি নেতিবাচক। তাই অনেকেই মনে করেন গর্বাচেভ ছিলেন পুঁজিবাদের সমর্থক সাম্যবাদের মুখোশের আড়ালে।

39. সবুজ বিপ্লবের দুটি ইতিবাচক ও দুটি নেতিবাচক ফলাফল আলোচনা করো।

উত্তর: সবুজ বিপ্লব : 1966 খ্রিস্টাব্দ থেকে ভারতে অনুসরণ করা হয় কৃষি উন্নয়নের নতুন কৌশল, যার মুখ্য উপাদান হল উন্নত ধরনের অর্থাৎ অধিক ফলনশীল বীজের ব্যবহার, জলসেচের পর্যাপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা, রাসায়নিক সারের ব্যাপক প্রয়োগ, কীটনাশক ওষুধের ব্যবহার ইত্যাদি এই সকল ব্যবস্থা গৃহীত হওয়ার ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে কৃষি উৎপাদনের নাটকীয় উন্নতি ঘটে। তাই এর নাম কৃষিতে সবুজ বিপ্লব।

• সবুজ বিপ্লবের দুটি ইতিবাচক দিক হল

[i] সবুজ বিপ্লবের ফলে খাদ্যশস্যের বিশেষ করে ধান ও গমের উৎপাদন বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

[ii] দ্বিতীয়ত, সবুজ বিপ্লবের সুবাদেই ভারত খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে 1971 খ্রিস্টাব্দে পিএল 480 অনুযায়ী আমেরিকা থেকে খাদ্যশস্যের আমদানি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল।

• এই বিপ্লবের দুটি নেতিবাচক দিক হল—

[i] সবুজ বিপ্লব প্রকল্প বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ও রাজ্যের মধ্যে বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল সেইসব অঞ্চলেই যেখানে জল ও অন্যান্য উপাদানগুলির সরবরাহ সুনিশ্চিত করা যাবে এবং কৃষিসারের বিপুল সরবরাহ-সহ ঋণদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। এইগুলির সবই হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে যথেষ্ট পরিমাণে ছিল। এইভাবে, এইসব রাজ্যগুলিতে উচ্চফলনশীল জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

[ii] সবুজ বিপ্লবের দরুন আঞ্চলিক বৈষম্য ছাড়াও কৃষকদের মধ্যে শ্রেণিবিন্যাস আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যারা অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল (প্রধানত 5-6 শতাংশ ধনী কৃষক) হওয়ার কারণে সবুজ বিপ্লবের সুযোগসুবিধা গ্রহণ করতে পেরেছে—আর তারা আরও ধনী ও স্বচ্ছল হয়ে উঠেছে। অপরদিকে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ক্রমশ অধিক থেকে অধিকতর সংখ্যায় সর্বহারাতে পরিণত হয়েছে।

40. সংক্ষেপে বিশ্বায়নের বিরোধ সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর: সাম্প্রতিককালের যে বিশ্বায়ন, যাকে সবাই বাণিজ্যিক বিশ্বায়ন বলে অভিহিত করে, আমি এই বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে। আমার যুক্তিগুলি হল যে—

[i] উন্নত দেশগুলি বিশ্বায়নের মাধ্যমে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বুঝিয়েছে যে, বিশ্বায়ন গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য অপরিহার্য। আসলে এটি একটি ধোঁকা। বিশ্বায়নের মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্রগুলি তৃতীয় বিশ্বের এইসব রাষ্ট্রগুলিতে শোষণের সুযোগ পেয়েছে।

[ii] বিশ্বায়নের ধারণা এই বিশ্বাস স্থাপন করেছে যে, সংকীর্ণ জাতীয় সীমান্তের ধারণা ত্যাগ করে আন্তর্জাতিক দিকে যাওয়াই ভালো। আসলে এটি আন্তর্জাতিকতাবাদ নয়, পুঁজিবাদের নামান্তর।

[iii] বিশ্বায়নের ফলে ধনী আরও ধনী হয়েছে, গরিব আরও গরিব হয়েছে। আসলে বিশ্বায়ন সমাজের মধ্যে একটি বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।

[iv] বিশ্বায়নের মাধ্যমে পশ্চিমি রাষ্ট্রগুলি তাদের সাংস্কৃতিক আধিপত্য এইসব দেশের ওপর চাপিয়েছে। ফলে আমাদের দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ক্রমশ বিনষ্ট হচ্ছে।

[v] উন্নত রাষ্ট্রগুলি আমাদের দেশে এই ধারণা প্রচার করছে যে, আমাদের দেশের প্রযুক্তি অপেক্ষা তাদের দেশের প্রযুক্তি অনেক উন্নত। এই প্রচারের মাধ্যমে তারা তাদের দেশের বাতিল প্রযুক্তি ও দ্রব্য আমাদের দেশে চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র মানুষ।

[vi] বিশ্বায়নের ফলে স্বদেশীয় কলকারখানা, কৃষি, কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্রশিল্প প্রায় ধ্বংসের পথে। তার বদলে বহুজাতিক সংস্থা ও বিদেশি সংস্থা সবকিছুর দখল নিচ্ছে।

41. ভারতের পারমাণবিক নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী উল্লেখ করো।

উত্তর: বিংশ শতকের চারের দশকে হোমি জাহাঙ্গির ভাবার নেতৃত্বে ভারতে প্রথম পরমাণু কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। বর্তমানে ভারত বিশ্বে পরমাণু শক্তিধর একটি রাষ্ট্রের নাম।

• ভারতের পারমাণবিক নীতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

[i] ন্যূনতম পারমাণবিক শক্তি ভাণ্ডার: ভারত অন্য যে-কোনো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র বা শত্রুপক্ষের দ্বারা ভীতি প্রদর্শন, আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য ন্যূনতম পারমাণবিক শক্তি রক্ষণাবেক্ষণ করে।

[ii] প্রথম ব্যবহার না করার নীতি: ভারত অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরমাণু শক্তি প্রথমে ব্যবহার না করার নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে কোনো রাষ্ট্র পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে ভারত তার যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত।

[iii] উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যবহার: ভারতের পরমাণু নীতির লক্ষ্য হল শান্তিপূর্ণভাবে উন্নয়নমূলক কার্যকলাপে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার করা।

[iv] স্ট্র্যাটেজিক নিউক্লিয়ার কম্যান্ড: ভারত 2003 খ্রিস্টাব্দে গঠন করে স্ট্র্যাটেজিক নিউক্লিয়ার কম্যান্ড। যার কাজ হল দেশের পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও সম্পদের দেখভাল করা। সবশেষে বলা যায় ভারত নিরস্ত্রীকরণের নীতিতে বিশ্বাসী নির্জোট আন্দোলনের সমর্থক।

42. প্রিভিপার্স কী ? এটি বিলোপের তিনটি কারণ আলোচনা করো।

উত্তর: স্বাধীনতার সময়ে অনেক দেশীয় রাজন্যশাসিত রাজ্য ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজারা নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিজেদের অধিকারে রাখতে পারবে এবং অতিরিক্ত সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহণ করবে। বিনিময়ে সরকার তাদের পরিবারকে বংশানুক্রমিকভাবে অনুদান বা সরকারি ভাতা প্রদান করবে। এই অনুদান সংযুক্ত রাজ্যের আকার ও রাজস্ব পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে। সরকার কর্তৃক প্রদেয় এই সুযোগ-সুবিধাকে বলা হয় রাজন্যভাতা বা প্রিভিপার্স।

• প্রিভিপার্স বিলোপের কারণ :

[i] ন্যায়ের পরিপন্থী : ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং সংবিধানের অন্যান্য অংশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাজন্যভাতা প্রদান এই সকল ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

[ii] সাম্যের বিরোধী : সংবিধানের 14 নং ধারায় সাম্যের নীতি রয়েছে। বলা হয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং আইন কর্তৃক সকলে সমান সুযোগ পাবে। কিন্তু রাজপরিবারের প্রতি বিশেষ সুবিধা সাম্যের নীতির বিরোধী।

[iii] অগণতান্ত্রিক : ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশে বংশানুক্রমিক কোনো পদ নেই যা কাম্যও নয়। সাধারণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত, তাই দেশীয় রাজাদের বংশানুক্রমিকভাবে ‘ভাতা' গণতন্ত্র সম্মত নয়।

43. 370 নং ধারার সাম্প্রতিক অবস্থান সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: ভারতীয় সংবিধানের 22তম অংশে সংযোজিত 370 নং ধারা অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জন্য বিশেষ সুযোগসুবিধার ব্যবস্থা করা হয়।

সম্প্রতি 2019 খ্রিস্টাব্দের 5 আগস্ট নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত সরকার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধানের 370 নং ধারা অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জন্য যাবতীয় সুযোগসুবিধা বিলুপ্ত করে। রাজ্যটিকে বিভক্ত করে 2টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে। যার একটি জম্মু এবং অপরটি লাদাখ।

 বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরের স্বতন্ত্র পতাকা ও সংবিধান নেই। ভারতীয় সংবিধানের সকল ধারা এখানে প্রযোজ্য। অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা এখন জম্মুতে ও লাদাখে জমি ক্রয়-বিক্রয় ও বসবাসের সুযোগ পাবে।

 ভারতের অন্যান্য রাজ্যের অধিবাসীরা জম্মু ও লাদাখে কেন্দ্রশাসিত প্রদেশের সরকারের বিভিন্ন দফতরে এবং কোম্পানিতে কর্মসংস্থানের সুযোগসুবিধা অর্জন করেছে।

জম্মু ও লাদাকের স্থায়ী বাসিন্দা মেয়েদের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিবাহ বন্ধনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...