সঠিক উত্তরটি বাছাই করো। 1 × 10 = 10
1. যে প্রত্নকেন্দ্রে খালের চিহ্ন পাওয়া গেছে—
(a) কালিবঙ্গান
(b) কোটদিজি
(c) সোটুগাই
(d) দাবারকোট
উত্তর: (c) সোটুগাই।
2. গান্ধার শিল্পের শ্রীবৃদ্ধি হয় —
(a) মৌর্য যুগে
(b) কুষাণ যুগে
(c) গুপ্ত যুগে
(d) সাতবাহন যুগে
উত্তর: (d) কুষাণ যুগে ।
3. মহাকাব্যের যুগে ‘সারথি কবি' বলা হত—
(a) সূত্রধরদের
(b) সুতদের
(c) মাহুতদের
(d) ব্রাহ্মণদের
উত্তর: (d) সূতদের।
4. গৌতম বুদ্ধের মতে মানুষ অনুসরণ করলেই নির্বাণ লাভ ঘটে।
(a) আর্যসত্য
(b) ত্রিরত্ন
(c) অষ্টাঙ্গিক মার্গ
(d) চতুরাশ্রম
উত্তর: (c) অষ্টাঙ্গিক মার্গ ।
5. আল-বিরুনীর জন্মস্থান—
(a) কাবুল
(b) দিল্লি
(c) খোয়ারিজম
(d) আজমির
উত্তর: (c) খোয়ারিজম।
6. গ্রন্থসাহিব গ্রন্থটি যে লিপিতে লেখা—
(a) ব্রাহ্মী
(b) খরোষ্ঠী
(c) সংস্কৃত
(d) গুরুমুখী
উত্তর: (d) গুরুমুখী।
7. যে বছর ভারত সরকার হাম্পিকে ভারতের একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে গণ্য করে—
(a) 1975 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1976 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1977 খ্রিস্টাব্দে
(d) 1978 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (b) 1976 খ্রিস্টাব্দে।
৪. সাফাভিদ সাম্রাজ্যের অবস্থান ছিল—
(a) তুর্কি
(b) ইরাক
(c) রোম
(d) ইরান
উত্তর: (d) ইরান।
9. কত খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় ?
(a) 1788 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1790 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1793 খ্রিস্টাব্দে
(d) 1795 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (c) 1793 খ্রিস্টাব্দে।
10. জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল 1919-এর—
(a) জানুয়ারি মাসে
(b) মার্চ মাসে
(c) এপ্রিল মাসে
(d) জুন মাসে
উত্তর: (c) এপ্রিল মাসে।
নীচের প্রশ্নগুলি একটি শব্দে / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও। 1 ×20 = 20
11. সিম কী ?
উত্তর: খুব সম্ভবত সিন্ধুবাসীরা তুলোকে সিন্ধম বলত।
12. সিন্ধুসভ্যতায় বসতিগুলি কয়ভাগে বিভক্ত ছিল ও কী কী ?
উত্তর: হরপ্পা সভ্যতায় বসতিগুলি দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। যথা— সিটাডেল অথবা উচ্চ শহর এবং নিম্ন শহর।
13. হরপ্পা সংস্কৃতির সময়কাল কী ছিল ?
উত্তরঃ হরপ্পা সংস্কৃতির সময়কাল ছিল খ্রি. পূ. 2600 থেকে 1900 খ্রি. পূ. পর্যন্ত।
14. জনপদ বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: ‘জন’ থেকে ‘জনপদ' কথাটির উৎপত্তি। আবার ‘জনপদ' কথার অর্থ জনগণ যেখানে পদ বা পা রাখে বা বসবাস করে।
15. 'দেবানপিয়েন পিয়দসি-এর অর্থ কী ?
উত্তর: 'দেবানপিয়েন পিয়দসি' শব্দটির অর্থ দেবতাদের প্রিয় অর্থাৎ যে ব্যক্তি সকলকে স্নেহের চোখে দেখেন।
16. বেদ কয়টি খণ্ডে বিভক্ত ও কী কী ?
উত্তর: বেদ চার খণ্ডে বিভক্ত : ঋক্, সাম, যজু এবং অথর্ব।
17. কোথায় কোথায় বৌদ্ধ সংগীতিসমূহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ?
উত্তর: রাজগৃহ, বৈশালী, পাটলিপুত্র ও কাশ্মীরে বৌদ্ধ সংগীতিসমূহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
18. ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাপ্ত ইবন বতুতার পাঠকদের অপরিচিত দুটি উদ্ভিজ্য পণ্যের নাম লেখো ।
উত্তর: ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাপ্ত ইবন বতুতার পাঠকদের অপরিচিত দুটি উদ্ভিজ্য পণ্যের নাম হল- নারিকেল ও পান ।
19. 'মঞ্জিল আবাদি' কী ?
উত্তর: মঞ্জিল আবাদি হল আইন-ই-আকবরী গ্রন্থের প্রথম খণ্ড, যাতে রাজপ্রাসাদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
20. একজন গ্রিক দার্শনিকের নাম বলো যার দার্শনিক তত্ত্ব ও চিন্তার দ্বারা আল-বিরুনী প্রভাবিত হয়েছিলেন ?
উত্তর: প্লেটো একজন গ্রিক দার্শনিক।
21. মলফুজাতের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল ?
উত্তর: মলফুজাতের মূল বিষয়বস্তু হল শেখ নিজামউদ্দিন আউলিয়ার কথোপকথন।
22. জাম্বাবতী কল্যাণম্ কী ?
উত্তর: বিজয়নগরের রাজা কৃরদেব রায় জাম্বাবতী কল্যাণম্ নামে একটি সংস্কৃত ভাষায় সাহিত্য রচনা করেন।
23. হাজার রাম মন্দির কোথায় অবস্থিত ?
উত্তর: হাম্পি শহরে অবস্থিত হাজার রাম মন্দির।
24. কে ঐশ্বরিক আলোর ধারণাটি উদ্ভাবন করেন ?
উত্তর: ‘ঐশ্বরিক আলোর’ ধারণাটি উদ্ভাবন করেন শিহাবুদ্দিন শেহরোওয়ার্দী নামে এক সুফি সাধক।
25. মোগল সাম্রাজ্যের সমসাময়িক, এশিয়া মহাদেশের দুটি সাম্রাজ্যের নাম লেখো ।
উত্তর: এশিয়া মহাদেশের দুটি সাম্রাজ্যের নাম অটোমান সাম্রাজ্য ও চিন সাম্রাজ্য।
26. কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
উত্তর: কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা ফ্রান্সিস বুকানন প্রতিষ্ঠা করেন।
27. ডঙ্কা শাহ নামে কে পরিচিত ছিলেন ?
উত্তর: মৌলবি আহমদুল্লা শাহ।
28. 'Relief of Lucknow' চিত্রটি কে অঙ্কন করেন ?
উত্তর: 'Relief of Lucknow চিত্রটি টি.জে. বার্কার -এর আঁকা।
29. ভারতের স্বাধীনতার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন ?
উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ক্লেমেন্ট রিচার্ড এটলি ।
30. সংবিধানের খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান কে ছিলেন ?
উত্তর: ড. বি আর আম্বেদকর সংবিধানের খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 20টি শব্দের মধ্যে লেখো। 2 x 5 = 10
31. ষোড়শ মহাজনপদ বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অঙ্গুত্তরনিকায় ও জৈন গ্রন্থ ভগবতীসূত্রে 16টি মহাজনপদের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়, যার উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। যা প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এইগুলি হল— কাশী, কোশল, অঙ্ক, মগধ, মৎস, মল্ল, বৎস, চেদি, কুরু, পাঞ্চাল, গান্ধার, সুরসেন, বৃদ্ধি, অস্মক, অবন্তী, কম্বোজ।
32. বিট্রল মন্দিরের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ?
উত্তর: বিট্রল মন্দিরটি হাম্পি শহরের এক অনবদ্য স্থাপত্য কীর্তি। মন্দিরটি ভগবান বিষ্ণুর পূজার্চনার জন্য পাহাড় কেটে নির্মিত হয়। মন্দিরটি পাথর কেটে রথের আদলে তৈরি। মন্দিরের ভিতর রয়েছে গর্ভগৃহ ও চন্দ্রাতপ। মন্দিরটির ভিতরে ও বাইরে অনেকগুলি থাম রয়েছে।
33. মোগল যুগে জলসেচ ব্যবস্থা কীরূপ ছিল ?
উত্তর: মোগল যুগের প্রারম্ভে, অর্থাৎ বাবরের সময়ও জমিতে জলসেচের প্রচলন ছিল এবং চাকার সাহায্যে জলসেচ করা হত।
কোনো কোনো অঞ্চলে বালতির সাহায্যে জলসেচ করার প্রচলন ছিল। মোগল সাম্রাজ্যে সেচপ্রকল্পগুলি সরকারি সাহায্য পেত। ফলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে অনেক নতুন খাল খনন করা হয়, যেমন— শাহজাহানের রাজত্বকালে পাঞ্জাবের শাহনাহর খাল উল্লেখ্য। পুরোনো খালগুলিও সংস্কার করা হয়।
34. মহাবিদ্রোহের কয়েকজন প্রাদেশিক নেতৃত্বের নাম উল্লেখ করো।
উত্তর: মহাবিদ্রোহের কয়েকজন প্রাদেশিক নেতৃত্বের নাম— ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই বুন্দেলখণ্ডে, লখনউয়ের শাসক বিজিস কাদের, বিহারের জমিদার কুনওয়ার সিং প্রমুখরা বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চলের প্রশাসকরা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
35. গান্ধিজি কেন অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ?
উত্তর: 1922 খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে সংযুক্ত প্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামে একদল বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পুলিশ স্টেশনে তালা লাগিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় কর্মরত বহু নিরীহ পুলিশকর্মী প্রাণ হারান। আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠায় গান্ধিজি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 60টি শব্দের মধ্যে লেখো। 3x3 = 9
36. মহাভারতের যুগে রাজনৈতিক জীবন বর্ণনা করো ।
উত্তর: রাজনৈতিক জীবন:
[i] মহাভারতের যুগে কোশল, কুরু ও পাঞ্চালের মতো শক্তিশালী রাজ্য তথা রাজবংশের হাত ধরে সেযুগে উত্তর ভারতে এক-একটি শক্তিশালী রাজতন্ত্র গড়ে ওঠার কথা জানা যায়।
[ii] সমাজে রাজাই ছিলেন সর্বেসর্বা। তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর হাতেই রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল। যদিও তাঁর অধীনে একটি মন্ত্রীগোষ্ঠী ছিল।
[iii] রাজারা ছিলেন সাম্রাজ্যবাদী। তাঁরা, তাঁদের ক্ষমতা জাহির করার জন্য নানাবিধ উপাধি (রাজচক্রবর্তী) ধারণ করতেন। এর জন্য অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করতেন।
[iv] রাজারা মদ্যপান করতেন এবং জুয়া খেলতেন।
37. ভারতে সুফি মতবাদ প্রসারের তিনটি কারণ লেখো ।
উত্তর: মধ্যযুগীয় ভারতে সুফি মতবাদ তথা সুফি আন্দোলনের প্রসার ও বিকাশ এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। এই প্রসার বা সাফল্যের পিছনে ছিল নানাবিধ কারণ, যেমন—
[i] সরকারি অনুগ্রহ : সুফিসন্তরা সমকালীন সুলতান ও মোগল শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন। দিল্লির শাসকরা ইসলামের আদর্শ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলেও সুফিসন্তদের মতবাদ ও আদর্শের বিরোধিতা করেননি। উপরন্তু তাঁরা সুফি দরগাগুলির উন্নতিকল্পে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন।
[ii] ধর্ম উদারতা: সুফিসম্ভরা ছিলেন ধর্ম উদার। তাঁরা হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের বিরোধিতা করেননি, ফলে বহু হিন্দু সুফিবাদের অনুরাগী হয়। সুফিসন্তরা কাউকে বলপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ করেননি বা বে-শরিয়াপথীদের বা-শরিয়া মতবাদ অনুসরণ করতে বলেননি। বরং তাঁরা সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলার দিকে জোর দিয়েছিলেন।
[iii] বর্ণভেদের বিরোধিতা: তাঁরা জাতপাত ও বর্ণভেদের ঘোর বিরোধী ছিলেন। যে কারণে অবহেলিত ও পিছিয়ে- পড়া নিম্নবর্ণের অনেক হিন্দু এই ভাবধারায় শামিল হয় ।
38. পঞ্চম প্রতিবেদনের প্রধান তিনটি দিক আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যকলাপের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের Fifth Report বা ‘পঞ্চম প্রতিবেদন' ব্রিটিশ পার্লামেন্টে 1813 খ্রিস্টাব্দে উত্থাপন করা হয়েছিল।
[i] ব্রিটিশ কোম্পানির প্রশাসনিক কার্যকলাপের রিপোর্ট প্রতিনিয়ত ব্রিটিশ পার্লামেন্টে জমা দেওয়ার জন্য আদেশ জারি করা হয় এবং কোম্পানির কার্যকলাপ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। [ii] রাজকীয় সনদের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে একচেটিয়াভাবে বাণিজ্য করছিল। কিন্তু ব্রিটিশ শিল্পপতিরা ভারতের বাজার উন্মুক্ত করতে আগ্রহী ছিল।
[iii] কোম্পানির কুশাসন এবং দায়সারা গোছের প্রশাসনিক নীতি নিয়ে ব্রিটেনে আলোচনা হচ্ছিল। কোম্পানির আধিকারিকদের লোভ ও দুর্নীতির খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়ে পড়ে।
পঞ্চম প্রতিবেদন এমনই একটি প্রতিবেদন যা নির্বাচিত কমিটির দ্বারা তৈরি হয়েছিল। ভারতবর্ষে কোম্পানির শাসনের প্রকৃতি নিয়ে তীব্র সংসদীয় বিতর্কের ভিত্তিতে এটি গঠিত হয়েছিল।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন ৪০টি শব্দের মধ্যে লেখো। 4x4 = 16
39. অমরাবতী স্তূপের ধ্বংসের কারণগুলি উল্লেখ করো ।
উত্তর: অমরাবতী স্তূপের ধ্বংসের কারণ :
[i] 1796 খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় এক রাজা মন্দির তৈরি করতে গিয়ে হঠাৎ অমরাবতী স্তূপের অবশিষ্টাংশ খুঁজে পান।
কয়েক বছর পর কলিন ম্যাকেনজি নামে একজন ইংরেজ কর্মচারী এই স্থানটি পরিদর্শন করেন এবং এখানকার স্থাপত্য সম্পর্কে নানান তথ্য সংগ্রহ করেন।
[ii] 1854 খ্রিস্টাব্দে গুন্টুরের কমিশনার ওয়াল্টার ইলিয়ট অমরাবর্তী পরিদর্শন করেন এবং কয়েকটি ভাস্কর্যের নমুনা ও নথি সংগ্রহ করে মাদ্রাজে নিয়ে যান। তিনি পশ্চিমদিকের তোরণদ্বারের অবশিষ্টাংশ আবিষ্কার করেন।
[iii] 1850 খ্রিস্টাব্দ থেকে এখানকার কারুকাজ করা কিছু পাথরের খন্ড ভারতের নানা গবেষণাকেন্দ্র এমনকি বিদেশেও নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। যেমন— কিছু পাথর কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গলে, কিছু পাথর মাদ্রাজের ইন্ডিয়া অফিসে, আর কিছু পাথর লন্ডনেও নিয়ে যাওয়া হয়।
[iv] ইংরেজ আধিকারিকরা নানান অজুহাতে অমরাবতীর বেশ কিছু মূর্তি নিয়ে চলে যেতে থাকেন। প্রত্নতত্ত্ববিদ এইচ এইচ কোলে এই কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করে এটিকে স্থাপত্যশিল্পের লুণ্ঠন বলে অভিহিত করেন।
[v] স্থাপত্যের নিদর্শনগুলি যথাস্থানে রেখে জাদুঘরগুলিতে এর প্রতিকৃতি রাখাই শ্রেয় বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি এই যুক্তি কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে সক্ষম হননি। ফলত অমরাবতী স্তূপটি এবং এর স্থাপত্যকর্ম ধ্বংস হয়ে যায়।
40. হাম্পির ধ্বংসাবশেষ অধ্যয়নের জন্য ঐতিহাসিকগণ কী কী পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন ?
উত্তর: হাম্পি ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের একটি সমৃদ্ধ শহর তথা রাজধানী। এখানে অনেকগুলি স্থাপত্যকর্ম ও তার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। 1800 খ্রিস্টাব্দে এই কাজ সম্পূর্ণ করেন কর্নেল কলিন ম্যাকেনজি নামে ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার তথা পুরাতত্ত্ববিদ।
[i] এখানে তিনি সর্বপ্রথম হাম্পি শহর ভালো করে নিরীক্ষণ করেন এবং এর একটি মানচিত্র অঙ্কন করেন। এরপর বিরূপাক্ষ মন্দির ও পম্পাদেবীর মন্দিরের পুরোহিতদের স্মৃতিভিত্তিক বিবরণ সংগ্রহ করেন। তারপর 1856 খ্রিস্টাব্দ থেকে আলোকচিত্রীরা এই মন্দিরগুলির ছবি তোলার কাজ শুরু করেন এবং এ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। ইতিপূর্বে পুরাতত্ত্ববিদগণ হাম্পির মন্দির-সহ অন্যান্য মন্দিরগুলি থেকে অনেক শিলালিপি উদ্ধার করেছিলেন।
[ii] উপরোক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক ও মৌখিক উপাদানগুলি প্রত্নতত্ত্ববিদদের গবেষণার কাজে সাহায্য করে। তৎ-সহ তাঁদের হাতে এসে পৌঁছোয় আরও কিছু তথ্য, যেমন— বিদেশি পর্যটকদের বিবরণী, বিভিন্ন ভাষায় লিখিত সাহিত্যিক উপাদান (যেমন—তামিল, তেলেগু, কন্নড়, সংস্কৃত ভাষা) ইত্যাদি।
স্বভাবতই উপরোক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানগুলির সঙ্গে বিরূপাক্ষ মন্দির ও পম্পাদেবীর মন্দিরের পুরোহিতদের মৌখিক বিবরণ মিলিয়ে মিশিয়ে হাম্পি শহরের ইতিহাস নির্মাণের কাজ করতে ঐতিহাসিকদের সুবিধা হয়।
41. 1857 খ্রিস্টাব্দের সময় ব্রিটিশরা কীভাবে তালুকদারদের ক্ষমতা খর্ব করেছিলেন ? আলোচনা করো।
উত্তরঃ লর্ড ডালহৌসি নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তালুকদারদের ক্ষমতা খর্ব করেন—
[i] তালুকদারদের জায়গির বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং তাঁদের ব্যাপক সম্পদহানি হয়।
[ii] তালুকদারদের সার্বভৌমত্ব ব্রিটিশ সরকারের সহ্য হচ্ছিল না।
[iii] নবাবের সিংহাসনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত তালুকদারদের নিরস্ত্র করা হয় এবং তাদের দুর্গসমূহ ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়।
[iv] Summary Settlement নামে নয়া ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা বলবৎ করে তাদের রাজস্বের বৃহৎ অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়। তালুকদারদের মাঝখান থেকে সরিয়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি ভূমি বন্দোবস্ত করা হয়।
[v] তালুকদারদের ক্ষমতা খর্ব হওয়ায় অযোধ্যার সামাজিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়।
42. এন জি রা কে ? এন জি রার মতে কারা প্রকৃত সংখ্যালঘু ? রক্ষার মত অনুসারে সাধারণ গ্রামবাসীদের অবস্থার বর্ণনা করো।
উত্তর: দক্ষিণ ভারতের এক বামপন্থী কৃষক নেতা ছিলেন এন. জি. রা।
• এন জি রার মতে প্রকৃত সংখ্যালঘু হল ভারতের সাধারণ মানুষ। যারা নিপীড়িত ও অবদমিত এবং যারা এখনো নাগরিকের অধিকার থেকে বঞ্চিত।
• এন জি রঙ্গর মত অনুসারে গ্রামের মানুষদের অবস্থা শোচনীয়। সেখানে গরিব কৃষকদের অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে জমিদার, জোতদার ও সুদখোর মহাজনরা তাদের নানাভাবে শোষণ করে। তিনি মহাজনি শোষণের একটু ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে হতদরিদ্র কৃষকরা তাদের শোষণের শিকার হয়। যেমনটি দেখা গেছে ইংরেজ-ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে । তখন আদিবাসী সাঁওতাল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতি কৃষকরা এই মহাজন জমিদার, জোতদার ও বহিরাগত বণিকদের কবলে পড়ে জমি-জমা খুইয়ে হামেশাই সর্বস্বান্ত হত।
অথবা, ভারতীয় সংবিধানের চারটি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতীয় সংবিধানের বৈশিষ্ট্য :
[i] বিশ্বের বৃহত্তম ও জটিল সংবিধান : মূল সংবিধানে 395টি ধারা, অসংখ্য উপধারা ও ৪টি তফশিল ছিল। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে 450টি ধারা, অসংখ্য উপধারা ও 12টি তফশিল হয়েছে। ভারতের সংবিধান বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বড়ো জটিল। কারণ এই সংবিধান বিভিন্ন ধারা, উপধারার সমন্বয়ে গঠিত। তা ছাড়া, সংবিধান বারংবার সংযোজন করার ফলে সংবিধানের আসল রূপ পালটে যাচ্ছে।
[ii] যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো : ভারতীয় সংবিধানে ভারতবর্ষের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো স্বীকৃতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল- লিখিত সংবিধান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন, নিরপেক্ষ যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতের উপস্থিতি। উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলি ভারতীয় সংবিধানে থাকার ফলে ভারতীয় সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রকৃতির হয়েছে।
[iii] প্রস্তাবনার সংযোজন: ভারতীয় সংবিধানের একটি প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, এটি আমেরিকার সংবিধানের অনুকরণে জওহরলাল নেহরু রচনা করেছিলেন। মূল সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারতবর্ষকে 'সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র' আখ্যা দেওয়া হলেও 1976 খ্রিস্টাব্দের 42 তম সংশোধনের প্রস্তাবনায় সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ কথাদুটির সংযোজন করা হয়। ফলে বর্তমান প্রস্তাবনা অনুযায়ী ভারতবর্ষ ‘সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র' দেশ। তবে প্রস্তাবনা সংবিধানের মূল অংশ নয়।
[iv] মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি : সংবিধান প্রণয়নের সময় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সাতটি মৌলিক অধিকার ছিল, কিন্তু 1978 খ্রিস্টাব্দের 44 তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক অধিকারের সংখ্যা 6টি করা হয়েছে। এগুলি হল— (a)সাম্যের অধিকার, (b) স্বাধীনতার অধিকার, (c) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার, (d) শাসনতান্ত্রিক প্রতিবিধানের অধিকার, (e) শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক অধিকার, (f) শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 120টি শব্দের মধ্যে লেখো। 5 x 2 = 10
43. সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক জীবন সম্বন্ধে আলোচনা করো ।
উত্তর: ভারতের প্রাচীন সভ্যতাগুলির মধ্যে সিন্ধু সভ্যতা অন্যতম এবং অবশ্যই অনন্য । এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবন ছিল বেশ আকর্ষণীয়।
সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক জীবন—
[i] শ্রেণিবৈষম্য: সিন্ধু সভ্যতার সমাজে শ্রেণিবৈষম্য ছিল বলে ঐতিহাসিকেরা মত প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক এ ডি পুসলকর সিন্ধু সভ্যতার জনসমাজকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। যথা— (a) শিক্ষিত সম্প্রদায়, (b) যোদ্ধা, (c) বণিক এবং (d) কর্মকার ও শ্রমিক শ্রেণি। সিন্ধু সভ্যতার দুর্গ ও নগরের পাকাবাড়ির পাশাপাশি ঝুপড়ি জাতীয় সারিবদ্ধ ঘরগুলি সমাজে শ্রেণিবৈষ্যম্যের অস্তিত্বকে চিহ্নিত করে। তবে সামাজিক শ্রেণিগুলির মধ্যে পুরোহিত সম্প্রদায়ের গুরুত্ব ছিল বেশি।
[ii] কৃষিকৰ্ম : সিন্ধুবাসীদের সামাজিক জীবনের অনেকটাই আবর্তিত হত কৃষিকর্মের দ্বারা। কোনো সমাজে কৃষি অর্থনীতির বিকাশ না হলে নাগরিক সমাজের বিকাশ ঘটে না। সিন্ধু সভ্যতার জমি সিন্ধুনদের অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় তা কৃষির বিকাশের অনুকূল ছিল। সিন্ধু সভ্যতার খননকার্যের ফলে পাওয়া নানা তথ্য এবং শস্য রাখার গোলার উপস্থিতি প্রমাণ করে সিন্ধু সভ্যতায় কৃষিকাজ বেশ উন্নত ছিল।
[iii] পোশাক-পরিচ্ছদ: সিন্ধুবাসীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বিলাস-দ্রব্য এবং গহনা বেশ উন্নতমানের ছিল। এরা সুতি ও পশম উভয় ধরনের পোশাকই ব্যবহার করত। নারীরা সাধারণত দু-ধরনের পোশাক ব্যবহার করত। অলংকার হিসেবে নূপুর, আংটি, বাজু, হার, বালা, দামি পাথর ব্যবহার করত। সেই সময় সোনার ব্যবহার হত বলে জানা গেছে।
[iv] খাদ্য: সিন্ধুবাসীরা খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন দ্রব্য গ্রহণ করত। দুধ, খেজুর, গম, যব তারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করত। এ ছাড়া মাছ, মাংস তাদের প্রিয় খাবার ছিল।
অথবা, বিশ্বের সমকালীন যে-কোনো দুটি সভ্যতার সঙ্গে সিন্ধু সভ্যতার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আলোচনা করো ।
উত্তর: সিন্ধু সভ্যতা ভারতের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা। সিন্ধুনদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা নদীমাতৃক ও নগরকেন্দ্রিক এই সভ্যতার সঙ্গে বিশ্বের সমকালীন অন্যান্য সভ্যতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিশেষ করে মেসোপটেমীয় ও মিশরীয় সভ্যতার সঙ্গে সিন্ধু সভ্যতার নিবিড় যোগাযোগ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
• বিশ্বের সমকালীন সভ্যতার সঙ্গে সিন্ধু সভ্যতার সম্পর্ক :
[i] সিন্ধু সভ্যতা ও সুমের সভ্যতা: সিন্ধু সভ্যতার সঙ্গে সুমের সভ্যতার, বিশেষত পরবর্তীকালের মেসোপটেমিয়া সভ্যতার যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। প্রমাণস্বরূপ বলা যায়—
[a] মহেন-জো-দারোর সিলমোহরগুলির সঙ্গে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার সিলমোহরগুলির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
[b] সুমেরের সিলমোহর, খোদাই করা পাত্র, দীপাধার প্রভৃতি সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃত হয়েছে।
[c] উভয় সভ্যতার মধ্যে জলপথে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন জিনিস যেমন মেসোপটেমিয়ায় রফতানি হত, তেমনই মেসোপটেমিয়া থেকে নীলকান্তমণি, মূল্যবান ধাতু সিন্ধু সভ্যতায় আমদানি করা হত ।
[d] সিন্ধুর লোথাল বন্দরে প্রাপ্ত সিল এবং মেসোপটেমিয়ার আক্কাদ অঞ্চলে ভারতীয়দের উপনিবেশ স্থাপন প্রমাণ করে যে দুই সভ্যতার মধ্যে যোগাযোগ ছিল।
[e] সুমেরের বেশ কিছু দলিলে 'মেলুহা' নামক একটি জায়গার নাম উল্লেখ আছে। ঐতিহাসিকদের মতে, ওই জায়গাটি সম্ভবত সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল।
[f] ওমান অঞ্চলে খননকার্যের ফলে বেশ কিছু স্থানে ঘন স্তরযুক্ত কালো মাটির প্রলেপ দ্বারা নির্মিত বড়ো বিশেষ ধরনের পাত্র পাওয়া গেছে, যা হরপ্পাবাসীরা ওমানের তামার জন্য সম্ভবত বিনিময় করত বলে মনে করা হয় ।
[ii] সিন্ধু সভ্যতা ও মিশরীয় সভ্যতা : সিন্ধু সভ্যতার সঙ্গে মিশরীয় সভ্যতার সম্পর্ক ছিল বলে ঐতিহাসিকেরা মনে করেন। প্রধানত জলপথে ব্যাবসার সূত্র ধরে উভয় সভ্যতার মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছিল। উভয় সভ্যতার মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণস্বরূপ বলা যায়—
[a] সিন্ধু সভ্যতায় মিশরের অনুকরণে ষাঁড়ের পায়ের আদলে তৈরি পায়াযুক্ত টুল আবিষ্কৃত হয়েছে।
[b] উভয় সভ্যতার দীপধার বা মোমবাতি-দানির (Candle stand) মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
[c] সিন্ধু সভ্যতায় প্রাপ্ত মিশরীয় সভ্যতার অনুরূপ শিশু-সহ মাতৃকামূর্তি প্রমাণ করে উভয় সভ্যতার মধ্যে যোগাযোগ ছিল।
44. 1916 খ্রিস্টাব্দে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদবোধনী অনুষ্ঠানে গান্ধিজি তাঁর ভাষণে কী ধরনের উদবেগ তুলে ধরেছিলেন ? ওই ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 1916 খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারিতে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদবোধনী অনুষ্ঠানে গান্ধিজি প্রথম জনসমক্ষে আসেন। গান্ধিজি তাঁর বক্তৃতায় উপস্থিত সমস্ত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাধারণ দরিদ্রদের প্রতি উদাসীন মনোভাব পোষণ করার জন্য কঠোর ভাষায় সমালোচনা এবং আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান, কিন্তু সভায় উপস্থিত অলংকারে সজ্জিত ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে, দরিদ্র ভারতীয়দের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি উদবেগ প্রকাশ করেন । নিজেদের শরীরের ধনরত্ন গরিবদের দান করলে এর থেকে মহৎকার্য আর কিছু হতে পারে না বলে গান্ধিজি মনে করেন। আমরা যদি ভারতীয় কৃষকদের পরিশ্রমের ফসল নিজেরাই ভোগ করি বা অন্যের ভোগের জন্য তুলে দিই, তাহলে স্বশাসন আমরা কোনোদিনই লাভ করতে পারব না। এদেশের মুক্তি একমাত্র কৃষকদের মাধ্যমেই সম্ভব হতে পারে। ভারতীয় কৃষক এবং শ্রমিকরা জনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাদের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানে না থাকায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। গান্ধিজি তাঁর ভাষণে এই সত্যই তুলে ধরেন যে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ছিল উচ্চবিত্ত শ্রেণির ভাবনার প্রকাশ।
1915 খ্রিস্টাব্দে ভারত প্রত্যাবর্তনের পর গান্ধিজি দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে প্রবেশ করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। এই পেক্ষাপটে তাঁর হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তৃতা (1916) গান্ধিজির রাজনৈতিক জীবন তথা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভাষণের তাৎপর্যগুলি হল—
[i] গান্ধিজির দিক থেকে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষণ (1916) ছিল ভারতে প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ। তাই বলা যেতে পারে, গান্ধিজির রাজনৈতিক জীবনে সূচনার প্রথম সোপান ছিল 1916 খ্রিস্টাব্দের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষণ।
[ii] ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গান্ধিজির এই বক্তৃতা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। কেন-না খোলা মঞ্চে সকলের সামনে দাঁড়িয়ে গান্ধিজি সাধারণ মানুষ যেমন কৃষক ও শ্রমিকের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেন যা পূর্বে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম সমাজের উচ্চশ্রেণির ভাবনার প্রকাশ থেকে বেরিয়ে জনসাধারণের স্বার্থ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে।
অথবা, গান্ধিজিকে জানতে গেলে বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা কীভাবে মূল্যবান উপাদান পেয়ে থাকি ?
উত্তর: ‘জাতির জনক’ গান্ধিজি সম্বন্ধে জানতে হলে প্রাথমিকভাবে চার প্রকার সূত্রের আশ্রয় নিতে হবে। যেমন—ব্যক্তিগত দলিল বা চিঠি, ছবির চিত্রায়ণ, পুলিশের বয়ান/রিপোর্ট এবং সংবাদপত্র।
[i] ব্যক্তিগত দলিল বা চিঠিপত্র থেকে জানা যায়, ব্যক্তির চিন্তাধারার প্রকাশ। যেমন—গান্ধিজির ‘হরিজন' পত্রিকায় সমাজের নিম্নশ্রেণিভুক্ত মানুষের অবস্থা এবং তাদের প্রতি গান্ধিজির দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়।
[ii] আত্মজীবনী সমসাময়িক যুগের বিভিন্ন ঘটনা এবং সেই বিষয়ে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে। সেই দিক থেকে আত্মজীবনী এক অর্থে নিজের চরিত্রচিত্রণ অঙ্কন করে। যেমন—মহাত্মা গান্ধির আত্মজীবনী, The Story on My Experiments with Truth বইতে সেই সময়কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা এবং লেখকের বিশ্লেষণ আলোচিত হয়েছে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে।
[iii] সরকারি নথি হিসেবে পুলিশ রিপোর্ট ছিল ঔপনিবেশিক শাসকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করা হত। যেমন—গান্ধিজির ডান্ডি অভিযানের প্রভাব এবং জনপ্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে জানা যায় সেই সময়কার পুলিশি প্রতিবেদনে।
[iv] দেশি এবং বিদেশি ভাষায় প্রকাশিত তৎকালীন সংবাদপত্রগুলি হল তথ্যের এক-একটি আকর। বোম্বাই থেকে প্রকাশিত গঙ্গাধর তিলকের কেশরী পত্রিকা থেকে জানা যায়, সরকার আইন অমান্য আন্দোলন চলাকালে গান্ধিজিকে গ্রেফতার করলে তা জাতির অসন্তুষ্টির কারণ হবে। এই উক্তি থেকে বোঝাই যায়, সেই সময় ভারতের জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গান্ধিজি ছিলেন এক সর্বভারতীয় চরিত্র।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন