এক শব্দে বা বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। 1 x 20 = 20
1. সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থার নাম—
(a) RAW
(b) RAF
(c) ISI
(d) KGB
উত্তর: (d) KGB।
2. ভারত শ্রীলঙ্কায় শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ করে—
(a) 1982 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1985 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1987 খ্রিস্টাব্দে
(d) 1989 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (c) 1987 খ্রিস্টাব্দে।
3. ভারত ও চিন মধ্যবর্তী সীমান্তরেখাকে বলা হয়—
(a) অক্ষরেখা
(b) ডুরান্ড রেখা
(c) ম্যাকমোহন রেখা
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর: (c) ম্যাকমোহন রেখা।
4. নর্মদা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ হলেন—
(a) চণ্ডীপ্রসাদ ভাঁট
(b) বাবা আমতে
(c) আমির খান
(d) গৌরা দেবী
উত্তর: (b) বাবা আমতে।
5. বিশ্বায়নের প্রথম প্রবক্তা হলেন—
(a) জন রলস
(b) রোনাল্ড রবার্টসন
(c) রবার্ট নোজিক
(d) ডেহিড হেল্ড
উত্তর: (b) রোনাল্ড রবার্টসন।
6. 1969 খ্রিস্টাব্দে যে কটি ব্যাংক জাতীয়করণ করা হয়—
(a) 12টি
(b) 14টি
(c) 16টি
(d) 18টি
উত্তর: (b) 14টি।
7. এঁদের মধ্যে কে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতা নন—
(a) সুকর্নো
(b) মার্শাল টিটো
(c) চিয়াং কাইশেক
(d) গোলাম আব্দুল নাসের
উত্তর: (c) চিয়াং কাইশেক।
৪. পট্টি শ্রীরামালুর অনশন করে মৃত্যু হয়—
(a) 10 দিন
(b) 30 দিন
(c) 56 দিন
(d) 60 দিন
উত্তর: (c) 56 দিন।
9. গুজরাট দাঙ্গার সূত্রপাত —
(a) 2002 খ্রিস্টাব্দে
(b) 2003 খ্রিস্টাব্দে
(c) 2005 খ্রিস্টাব্দে
(d) 2000 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (a) 2002 খ্রিস্টাব্দে।
10 Hindu Pad Padshahi গ্রন্থের লেখক—
(a) জয়প্রকাশ নারায়ণ
(b) বিনায়ক দামোদর সাভারকর
(c) নরেন্দ্র দেব
(d) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর: বিনায়ক দামোদর সাভারকর।
এক শব্দে বা বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। 1 x 20 = 20
11. রাশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন ?
উত্তর: রাশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম হল বরিস ইয়েলৎসিন।
12. ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মীবৃন্দকে কী বলা হয় ?
উত্তর: ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মীবৃন্দকে ইউরোক্রটিস বলা হয়।
13. G-7 গোষ্ঠীতে এশিয়ার কোন দেশ এর সদস্য ?
উত্তর: জাপান একমাত্র এশিয়ার দেশ যে Group of Seven অথবা G-7 এর সদস্য।
14. 'জৈবিক অস্ত্র সম্মেলন' (BWC) করে স্বাক্ষরিত হয় ?
উত্তর: জৈবিক অস্ত্র সম্মেলন' (BWC) স্বাক্ষরিত হয় 1972 খ্রিস্টাব্দে।
15. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয় কবে, কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তর: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয় 1972 খ্রিস্টাব্দে জাপানের রাজধানী টোকিয়োতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
16. কে সাধারণ সভাকে বিশ্বনাগরিক সভা বলেছেন ?
উত্তর: গেটেল সাধারণ সভাকে বিশ্বনাগরিক সভা বলেছেন।
17. বাংলাদেশ গ্রামীণ ব্যাংক-এর প্রতিষ্ঠাতা কবে নোবেল পুরস্কার পান ?
উত্তর: বাংলাদেশ গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মোহম্মদ ইউনুস 2006 খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার পান।
18. 'ধরিত্রী সম্মেলন' কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ?
উত্তর: 'ধরিত্রী সম্মেলন' ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনেরিও (Rio de Janerio) শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
19. বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সিয়াটেল সম্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ?
উত্তর: বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সিয়াটেল সম্মেলন 1999 খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
20. নাক্স ই-ফরিয়াদি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে ?
উত্তর: নাক্স ই-ফরিয়াদি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হলেন ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ
21. হায়দরাবাদের শেষ নিজাম কে ছিলেন ?
উত্তর: হায়দরাবাদের শেষ নিজাম ছিলেন মীর ওসমান আলি খান বাহাদুর।
22. ভারতে সবুজ বিপ্লবের নায়ক কে ?
উত্তর: ভারতে সবুজ বিপ্লবের নায়ক ছিলেন বিজ্ঞানী এম. এস. স্বামীনাথন।
23. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সময় (1962) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কে ছিলেন ?
উত্তর: জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের সময় (1962 খ্রিস্টাব্দে) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন ভি কে মেনন।
24. ভারতে পরমাণু বিজ্ঞানের জনক কে ?
উত্তর: ভারতে পরমাণু বিজ্ঞানের জনক হোমি জাহাঙ্গির ভাবা।
25. ভারতে উদারনীতিবাদের প্রবক্তা কে ?
উত্তর: ভারতে উদারনীতিবাদের প্রবক্তা ছিলেন ড. মনমোহন সিং।
26. বিশ্বব্যাংকের সদর দফতর কোথায় অবস্থিত ?
উত্তর: বিশ্বব্যাংকের সদর দফতর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি সি-তে অবস্থিত।
27. বর্তমানে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সেক্রেটারিয়েটের নাম কী ?
উত্তর: বর্তমানে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সেক্রেটারিয়েট বা মহাসচিবের নাম হল অ্যান্টোনিয়ো গুতারেস।
28. চোগিয়াল কে ছিলেন ?
উত্তর: স্বাধীনতার সময় ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বতন্ত্র রাজ্য সিকিমের রাজা ছিলেন চোগিয়াল।
29. BSP দলের প্রতিষ্ঠাতা কে ?
উত্তর: BSP দলের প্রতিষ্ঠাতা হলেন কাশী রাম।
30. বি পি মণ্ডল কোন্ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ?
উত্তর: বি পি মণ্ডল বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (40টি শব্দের মধ্যে) 2 x 5 = 10
31. পেরেস্ত্রৈকা কী ?
উত্তর: পূর্বতন সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির 1985 খ্রিস্টাব্দে 27তম সম্মেলনে 'পেরেস্ত্রৈকা' নীতি ঘোষিত। রাশিয়ান শব্দ পেরেস্ত্রৈকার অর্থ পরিবর্তন বা নবসংস্কার। মূলত এটি একটি অর্থনৈতিক সংস্কার যার মূল বক্তব্য হল— বাজার অর্থনীতির প্রবর্তন, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি অবস্থান ছাড়াও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার উপস্থিতি। অর্থাৎ 'পেরেস্ত্রৈকা' সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির অবসান ঘটায়।
32. শরণার্থী কাদের বলা হয় ?
উত্তর : গৃহযুদ্ধ, নিপীড়ন থেকে আত্মরক্ষার জন্য যদি কেউ নিজ দেশ থেকে পালিয়ে অন্য কোনো দেশে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকায় তাকে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়ার স্বীকৃতি থাকে, তখন তাকে শরণার্থী বলে। যেমন—রোহিঙ্গা।
33. এজেন্ডা 21 বলতে কী বোঝায় ?
উত্তর: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে 1992 খ্রিস্টাব্দে ব্রাজিলের রাজধানী রিও-ডি-জেনেরিওতে 3 জুন-14 জুন যে প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন বা First Earth Summit অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে একবিংশ শতাব্দীতে জাতি রাষ্ট্রসমূহের জন্য পরিবেশ সংক্রান্ত, জৈব-বৈচিত্র্য, দারিদ্র্যদূরীকরণ, পানীয় জলের গুণমান নির্ণয়, এক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে যে সকল কর্ম পরিকল্পনা আলোচ্যসূচিতে স্থান পায় তাকে এজেন্ডা 21 বলে।
34. নিয়তির সঙ্গে মিলন কী ?
উত্তরঃ স্বাধীনতার প্রাক্কালে 1947 খ্রিস্টাব্দের 14 আগস্ট সন্ধ্যায় গণপরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু 14-15 আগস্ট মধ্যরাত্রে ভারতীয় গণপরিষদের বিশেষ অধিবেশনে সংসদের সেন্ট্রাল হলে ‘নিয়তির সঙ্গে মিলন নামক' তাঁর বিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন। নেহরু এই বক্তৃতাটির মাধ্যমে দীর্ঘকাল ধরে চলা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।
35. মিশ্র অর্থনীতি কী ?
উত্তর: ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পর ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক—উভয় পদ্ধতির কোনোটিকেই এককভাবে গ্রহণ করেনি। ভারত উভয় ব্যবস্থার মিশ্রণে দেশের উন্নয়নের নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যাকে মিশ্র অর্থনীতি বলা হয়) কৃষি, বাণিজ্য, শিল্পক্ষেত্রে বেশিরভাগ বেসরকারির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্র ভারী ও বৃহৎ শিল্পগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
অনধিক 60টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও । 3x2=6
36. একমেরু বিশ্ব মোকাবিলায় ভারত ও চিনের অর্থনীতি যথেষ্ট সক্ষম—যুক্তি প্রদর্শন করো।
উত্তর: ভারতের উদ্যোগে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। 1954 খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক পঞ্চশীল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। কিন্তু 1957 খ্রিস্টাব্দের পর থেকে উভয় দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিরোধ পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেগুলি হল – (i) সীমান্ত সমস্যা, (ii) তিব্বত সমস্যা, (iii) পাকিস্তানকে সামরিক সাহায্য, 1962 খ্রিস্টাব্দে চিন দ্বারা ভারত আক্রমণ—
অবশ্য দুটি দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেগুলি হল—
[a] উভয় দেশই রাষ্ট্রদূত প্রেরণের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে উদ্যোগী হয়েছে।
[b] উভয় দেশ সীমান্তে নিযুক্ত নিজ নিজ সৈন্যসংখ্যা কমিয়ে ফেলতে সম্মত হয়েছে।
[c] উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগ, অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ, পরিবহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঐক্যমতে পৌঁছানোর চেষ্টা জারি আছে।
[d] যুগ্ম কার্যকরী সমিতি উভয় দেশেই গঠিত হয়েছে সীমান্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলার জন্য।
[e] উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের আদান-প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
[f] সাংস্কৃতিক মত বিনিময়ের ব্যাপারে উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
[g] 1981 থেকে 1987 খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী পর্যায়ে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে উভয়ের মধ্যে সপ্তম দফা বৈঠক হয়।
[h] সীমান্ত সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টায় 'Joint Working Group' গঠিত হয়।
[i] প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও-এর চিন সফরকালে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হয়, যার মূল বিষয় ছিল সীমান্তরেখা বরাবর শান্তি প্রতিষ্ঠা।
37. জোট রাজনীতির নয়া পর্বে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মতাদর্শ নয়, জোট-ই বড়ো কথা—তোমার মতামত দাও ।
উত্তরঃ উপরিউক্ত বক্তব্যটি সমর্থনযোগ্য। কারণ জোটবদ্ধ রাজনীতির যুগে মতাদর্শগত রাজনীতির পরিবর্তে ব্যাবহারিক রাজনীতির ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়। রাজনৈতিক জোটগুলি মতাদর্শগত আদর্শ ব্যতিরেকেই গড়ে ওঠে—
[i] জোট সরকারের রাজনীতি মতাদর্শগত পরিধি থেকে পরিবর্তিত হয়ে ক্ষমতা বণ্টনের দিকে গুরুত্ব আরোপ করে।
[ii] NDA জোটের বেশিরভাগ দল বিজেপির ‘হিন্দুত্ব' মতাদর্শকে অস্বীকার করা সত্ত্বেও জোটবদ্ধ হয় ও সরকার গঠন করে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে মতাদর্শগত অমিল সত্ত্বেও জোটবদ্ধ থাকে।
উদাহরণ : যেহেতু বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলি তাদের মতাদর্শকে প্রাধান্য না দিয়ে সংকীর্ণ স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তাই তারা বর্তমানে যে-কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়ে তোলে। যদি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করেই জোটবদ্ধ হয়। এই রকম উদাহরণ জোট রাজনীতির নয়া পর্বে অসংখ্য রয়েছে। আঞ্চলিক স্তরে ও জাতীয় স্তরে দুই ক্ষেত্রেই জোটের প্রাধান্য দেখা যায়। 1989 খ্রিস্টাব্দের পর ভারতীয় রাজনীতিতে দলীয় স্বার্থ চরিতার্থের জন্য মতাদর্শহীন জোট গঠনের প্রবণতা দেখা যায়। যেমন—সমাজবাদী ও বিএসপি জোট, কংগ্রেস ও ডিএমকে জোট ইত্যাদি। অপরদিকে ত্রিপুরায় 2018 খ্রিস্টাব্দের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে বিজেপি-আইপিএফটি জোট গঠন করে। তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট সরকারের অপসারণ ঘটানো।
আবার বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বিজেপি ও জনতা দলের মুখ্য উদ্দেশ্যই ছিল লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলকে ক্ষমতাসীন হতে বাধা দেওয়া।
অপরদিকে পাঞ্জাবে শিরোমণি অকালি দল ও বিজেপি জোট গঠন করে কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য । সুতরাং, দেখা যাচ্ছে রাজনীতির নয়া পর্বে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতা দখলই মুখ্য হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে মতাদর্শ 'গৌণ' রূপে দেখা যাচ্ছে।
অনধিক ৪০টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও । 4x6-24
38. সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভাজনের কারণ লেখো।
উত্তর: বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে 1917 খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া প্রতিষ্ঠা লাভ করে লেনিনের হাত ধরে। কিন্তু বিংশ শতকেই শেষ দশকের শুরুতে রাষ্ট্রটির ভাঙন ঘটে। এর কারণগুলি হল—
i] জাতিগত বিভেদ : সোভিয়েত ইউনিয়নে ছিল অসংখ্য জাতি, উপজাতি ও নানা সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। তাদের বৈচিত্র্য ও বিভিন্নতা সোভিয়েত রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সংকটের সম্মুখীন করে তুলেছিল।
[ii] অর্থনৈতিক মন্দা : প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল খাদ্য উৎপাদন এবং অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ভার বাজেটে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে সমাজের বিশাল অংশের মানুষ অর্থ সংকটে পড়ে।
[iii] ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ : সোভিয়েত রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমন করা হত। এ ছাড়া KGB গোয়েন্দা বাহিনীর ভয়ে মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারত না।
[iv] অনুন্নত প্রযুক্তি : সোভিয়েত বিভাজনের কারণ অনুন্নত প্রযুক্তি। কারণ উৎপাদন ও বণ্টনে সাবেকি প্রথা, তথ্য প্রযুক্তিতে পশ্চিমি দেশগুলির তুলনায় অনেক পেছনে ছিল।
39. নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনলাভের ব্যাপারে ভারতের দাবির প্রতি তোমার সমর্থনের যুক্তি প্রদর্শন করো।
উত্তর: নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দাবি আমি সমর্থন করি, কারণ এটি শুধু যুক্তিসংগত নয়, ন্যায়সংগত।
জাতিপুঞ্জের পক্ষ থেকে প্রার্থীপদের জন্য কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। ভারত তার সবগুলি সাফল্যের সঙ্গে পূরণ করে। সেইসব শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষে যুক্তিগুলি আমি তুলে ধরছি—
[i] ভারত প্রথম থেকেই জাতিপুঞ্জের সদস্য এবং প্রথম থেকেই জাতিপুঞ্জের নীতি ও আদর্শ রূপায়ণে সক্রিয়।
[ii] গত সাত দশকের অধিক সময় ভারত তার দায় ও দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছে।
[iii] ভারত জনসংখ্যায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। বর্তমানে এখানে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ মানুষ বাস করে।
[iv] ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে গণতান্ত্রিক কাঠামো এত মজবুত যে এদেশে কখনোই সামরিক শাসন হয়নি, যা তার প্রতিবেশী দেশগুলিতে বারবার ঘটেছে এবং ঘটছে।
[v] ভারত জাতিপুঞ্জের বিভিন্ন তহবিলে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে থাকে। তা ছাড়া যে-কোনো দেশের বিপর্যয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি সারা বিশ্বে মারণ রোগ নোভেল করোনা ভাইরাসে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। এই রোগের বিশেষ একটি ওষুধ আমেরিকা-সহ সারা পৃথিবীতে ভারত পাঠিয়েছে।
[vi] জাতিপুঞ্জে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের সংখ্যাই বেশি অথচ উন্নয়নশীল দেশের কোনো প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য নয়। সেই হিসেবে ভারত উন্নয়নশীল দেশের যোগ্য প্রতিনিধি।
[vii] ভারত পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র কিন্তু সে একমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে এটি ব্যবহারে বিশ্বাসী।
[viii] জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে ভারতের সেনার সংখ্যাই বেশি এবং তাদের দায়িত্বশীল মানবিক আচরণ বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
তবে নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের প্রধান কাঁটা পাকিস্তান। পাক সরকার লাগাতার ভারতের বিরোধিতা করে আসছে এবং তার বন্ধু কিছু ধর্মান্ধ দেশ তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছে। অবশ্য বর্তমানে পাঁচটি সদস্য দেশের মধ্যে চিন ছাড়া সবাই ভারতকে সমর্থন জানিয়েছে। চিনের ভূমিকা বোঝা কঠিন। কিন্তু মনে রাখতে হবে ভারতের জোরালো সমর্থনের জন্যই চিন জাতিপুঞ্জে সদস্য পদ পেয়েছে।
যাই হোক, ভারত মনে করে জার্মানি, ব্রাজিল, জাপানও এই পদের যোগ্য। তাই ভারত ওই তিন দেশকে নিয়ে Group of 4 গঠন করেছে। ফলে এই দাবি অন্য মাত্রা পেয়েছে। তাই আমি মনে করি নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দাবি যুক্তিসংগত এবং ন্যায়সংগত।
40. বিশ্বায়নের রাজনৈতিক ফলাফলসমূহ উল্লেখ করো।
উত্তরঃ বিশ্বায়নের রাজনৈতিক ফলাফলগুলি হল—
[i] রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমের প্রাধান্য হ্রাস : বিশ্বায়নের যুগে ধনতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা জাতীয় সীমানার গুরুত্বকে অস্বীকার করে উন্মুক্ত সীমান্ত নীতির জয়গান করে। ডেভিড হেল্ড তার Political Theory and Modern State নামক গ্রন্থে বলেছেন বিশ্বায়নের ফলে উদ্ভূত শক্তিগুলি জাতীয় রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও পরিধিকে হ্রাস করেছে।
[ii] অরাষ্ট্রীয় কারকের ক্ষমতা বৃদ্ধি : বিশ্বায়নের যুগে জাতীয় রাষ্ট্র অপেক্ষা World Bank, IMF, জাতিপুঞ্জ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ADB ইত্যাদি সংস্থাসমূহ বিশ্বরাজনীতিকে নিয়ন্ত্রিত করছে। এমনকি জাতিরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে অতি মাত্রায়।
[iii] সাম্রাজ্যবাদের নামান্তর : (বিশ্বায়নের ফলে উন্মুক্ত বাণিজ্যের পথ অনেকটা খুলে যায়, ফলে প্রতিটি দেশই কম বেশি লাভবান হয়। অপরদিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকে বিচার করলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় শক্তিশালী দেশগুলি, যারা নানাভাবে স্বল্পোন্নত দেশগুলিকে শোষিত ও বঞ্চিত করছে, ফলস্বরূপ নয়া সাম্রাজ্যবাদের সূচনা করেছে।
[iv] রাষ্ট্রের ভূমিকার পরিবর্তন : বিশ্বায়নের যুগে রাষ্ট্রের জনকল্যাণকর ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রের কাজ হল আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সেবামূলক কাজ এখন গৌণ হয়ে গেছে এবং তা পরিত্যাগ করে নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান সুনিশ্চিত করে।
[v] বিশ্বগ্রামের উদ্ভব : প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন সমস্ত রাষ্ট্রগুলিকে একটি সমাজে যেন আবদ্ধ করেছে, যাকে বিশ্বগ্রাম বলা হয়। এই ব্যবস্থায় অতি দ্রুততার সঙ্গে পৃথিবীর নানা প্রান্তের চিন্তাভাবনা, ধ্যানধারণা ইত্যাদি বিষয়গুলি পারস্পরিক আদানপ্রদান ও মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে প্রভাবিত করে, যা বিশ্বায়নের অন্যতম রাজনৈতিক প্রভাব।
41. ভারতের বিদেশনীতির প্রধান নীতিসমূহ আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের বিদেশনীতির দুটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল—
[i] জোটনিরপেক্ষতা : ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হল জোটনিরপেক্ষতা। জোটনিরপেক্ষতা হল বিশ্বের কোনো শক্তিজোটের সঙ্গে যুক্ত না থেকে শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করা। তবে জোটনিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করলেও ভারত যুদ্ধ ও শান্তির প্রশ্নে নিষ্ক্রিয় থাকেনি। জোটনিরপেক্ষ হয়েও ভারত যুদ্ধ, আগ্রাসন, সামরিক স্থাপন, ঔপনিবেশিকতা, সাম্রাজ্যবাদ, অস্ত্রসজ্জা প্রভৃতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সোচ্চার হয়েছে।
[ii] পঞ্চশীল নীতি অনুসরণ : ভারতের বিদেশ-নীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল পঞ্চশীল নীতি অনুসরণ। এই পঞ্চশীলের নীতিগুলি হল—
[a] প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমিকতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
[b] অনাক্রমণ।
[c] অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
[d] সাম্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা।
[e] শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
[iii] সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা : ভারতের বিদেশনীতির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করা। ভারত একদিকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির আগ্রাসী নীতিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে চলেছে।
[iv] সামরিক জোট গঠন, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, বিদেশে পুতুল সরকার গঠন, নাশকতামূলক কার্যকলাপে উৎসাহ দান, ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়ে বিদেশে সরকারের পতন ঘটানো—প্রভৃতি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির নতুন নতুন কৌশলকে অতীতে ভারত তীব্রভাবে বিরোধিতা করেছে এবং আজও করছে।
42. কংগ্রেস দলে 'সিন্ডিকেট' কথাটির অর্থ কী ? সিন্ডিকেট গোষ্ঠীর ভূমিকা কী ছিল ? আলোচনা করো।
উত্তর: সিন্ডিকেট কথার অর্থ : কংগ্রেস দলের প্রেক্ষাপটে সিন্ডিকেট বলতে এমন একটি গোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে—যারা দলীয় সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তখনকার কংগ্রেস দলের সভাপতি কে কামরাজ। এই গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা ছিলেন—বোম্বাইয়ের এস কে পাতিল (বোম্বাই বর্তমানে মুম্বই), মহিশূরের (বর্তমানে কর্ণটিক) এস নিজালিংগাপ্পা, অন্ধ্রপ্রদেশের এন সঞ্জীব রেড্ডি এবং পশ্চিমবঙ্গের অতুল্য ঘোষ। লালবাহাদুর শাস্ত্রী এবং ইন্দিরা গান্ধি উভয়েই পরবর্তীকালে নিজেদের অবস্থান এই সিন্ডিকেটের সমর্থনের মাধ্যমে ধরে রেখেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধির নেতৃত্বে পরিচালিত প্রথম মন্ত্রীপরিষদে তাঁরাই ছিলেন সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। যে-কোনো ধরনের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁরাই ছিলেন প্রায় শেষ কথা। বিভাজনের পর সিন্ডিকেটের নেতারা এবং তাদের অনুগত ব্যক্তিরা কংগ্রেস (ও)-তে থেকে যান। তবে ইন্দিরা গান্ধির প্রভাবিত কংগ্রেস (আর) জনপ্রিয়তার পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। এর ফলে 1971 খ্রিস্টাব্দের পর এইসব প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্যরা ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁদের ক্ষমতা ও ভাবমূর্তি প্রায় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলে। ইন্দিরা গান্ধির কাছে বড়ো সমস্যা বিরোধী দল নয়, নিজ দলের প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট। এদের জন্য তাঁকে মানসিক ও কৌশলগতভাবে লড়তে হয়েছে। সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে ইন্দিরা গান্ধিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সিন্ডিকেট গোষ্ঠী ভূমিকা রেখেছিল।
সিন্ডিকেট নেতারা আশা করেছিলেন যে, ইন্দিরা গান্ধি তাদের পরামর্শ অনুসারে কার্য করবেন। কিন্তু ধীরে ধীরে ইন্দিরা গান্ধি দল ও সরকারের মধ্যে নিজের একটি স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি ও অবস্থান গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন। তিনি ইচ্ছানুযায়ী দলের বাইরে থেকে পছন্দের ও বিশ্বাসী লোকদের পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করেন। এইভাবে ধীরে ধীরে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তিনি তার বলয় থেকে সিন্ডিকেট গোষ্ঠীকে দূরে সরিয়ে দেন।
43. অসম আন্দোলন ছিল সাংস্কৃতিক স্বাধিকার ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার প্রতিফলন—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অসমে আন্দোলন সংগঠিত হয় 1979 থেকে 1985 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। অসমে সংগঠিত এই আন্দোলন অহমীয়া আন্দোলন নামে পরিচিত। আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা হিসেবে যে যুক্তিগুলির অবতারণা করা যায়, সেগুলি হল নিম্নরূপ—
[i] আন্দোলনটি বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ছিল, এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ থেকে আগত মুসলিম জনগোষ্ঠী বা শরণার্থী। অহমীয়াদের ধারণা হয় এই বহিরাগতদের কারণে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ক্ষুণ্ণ হবে।
[ii] এই বহিরাগত অনুপ্রবেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করবে। যেমন অসম খনিজ তেল, কয়লা, চা প্রভৃতি প্রাকৃতিক ও কৃষিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এখানে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল।
[iii] বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের কারণে অসম রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং স্থানীয় অহমীয়া জনগণ নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে।
[iv] এই সকল অনুপ্রবেশের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা সংখ্যালঘু শ্রেণিতে পরিণত হচ্ছিল।
এই সকল কারণে অহমীয়া জনগণ নিজেদের স্বাতন্ত্র্যতা বজায় ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে 1979 খ্রিস্টাব্দে All Assam Student Union (AASU) নামক এক ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে আন্দোলন (বিদেশি বিতারণ) শুরু করে। সমস্যা নিরসনে অবশেষে 1985 খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আজও এর সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হয়নি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন