বিশ্বায়নের সাংস্কৃতিক 4টি ফলাফল উল্লেখ করো ।
উত্তর: বিশ্বায়নের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এই প্রভাব শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সীমার গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।
[i] বিশ্বায়নের ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে ‘সাংস্কৃতিক একীকরণ' বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির অবাধ আদানপ্রদানের ফলে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যতা ক্ষুণ্ণ হয় না, বরং প্রতিটি সংস্কৃতি স্বতন্ত্র হিসেবেই থাকে। এই পদ্ধতিকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যায়ণ বলা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে একটি মিথস্ক্রিয়া বা পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
[ii] বিশ্বায়নের সাংস্কৃতিক প্রভাব আমাদের মতাদর্শকে পরিবর্তন করে। এর দ্বারা চিন্তাশীলতা পালটে যায়। বিশ্বায়ন খাদ্যাভ্যাস, পোশাকপরিচ্ছদ, জীবনশৈলী বদলাতে পারে। ফলে একটি দেশের রাজনৈতিক মতাদর্শ, ভাবনা অন্য দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে; অন্য রাষ্ট্রে আন্দোলন পরিচালনায় ইন্ধন জোগায়।
[iii] বিশ্বায়নের ইতিবাচক দিকগুলির পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিপদের মুখে পড়ছে। আসলে সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন সমস্ত বৈশিষ্ট্যকে এক ছাঁচে ফেলার চেষ্টা করে, ফলস্বরূপ দেশীয় সংস্কৃতি, আচার-আচরণের স্বাতন্ত্র্যতা বিনষ্ট হয়।
[iv] বিশ্বায়ন এক সর্বজনীন সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। সর্বজনীন সংস্কৃতি কখনোই বিশ্ব সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে না। সর্বজনীন সংস্কৃতি আসলে পশ্চিমি সংস্কৃতি। এর ফলে পশ্চিমি রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতা ও যশ সারা বিশ্বে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন