দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি কী কী সমস্যার সম্মুখীন আলোচনা করো।
উত্তর: ঠান্ডা যুদ্ধের অবসানের পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির একটি বড়ো সমস্যা বিদেশি প্রভাবের নাগপাশ। ঠান্ডা যুদ্ধকালে একমাত্র পাকিস্তান ছিল আমেরিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলি ছিল স্বাধীনভাবে বৈদেশিক নীতি নির্ধারণের অধিকারী। ফলে সব দেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব ছিল গভীর। কিন্তু একুশ শতকের প্রথম থেকেই চিন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে সচেষ্ট হয়। ঠান্ডা যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সরকার যেমন টাকার ঝুলি নিয়ে অন্য দেশে ঘুরে বেড়াত, সরকারগুলি কব্জা করার জন্য তেমনই চিনও এই অঞ্চলের দেশগুলিতে প্রভাব বিস্তার করতে অর্থ সাহায্য ও ঋণ দেবার টোপ দিত। চিনের প্রধান উদ্দেশ্য ভারত বিরোধিতা এবং ভারতকে ভারতের বন্ধু রাষ্ট্রগুলি থেকে বিচ্ছিন্ন করা। আমেরিকার থেকে বেশি অর্থ, অস্ত্র ও সুযোগসুবিধার টোপ দিয়ে প্রথমেই চিন পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পাকিস্তান চিনের কথায় ওঠে-বসে। সবচেয়ে বিস্ময়কর হল পুরোনো বন্ধু আমেরিকার নিন্দা ও বিরোধিতা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করছে না পাক সরকার। এইভাবে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, ভুটানকে পর্যন্ত ভারত-বিরোধী করে তুলেছে। অবশ্য এতে ভারত সরকারের কৌশল ও বৈদেশিক ব্যর্থতা অনেকাংশে দায়ী।
আলোচ্য বিষয়ের সবচেয়ে বড়ো ও টাটকা উদাহরণ নেপাল। ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক শত শত বছরের। নেপালের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ভারত। নেপালের রাস্তাঘাট, বাঁধ, খাদ্য, তেল, নির্মাণকার্যে সাহায্য দিয়েছে ভারত। সেই নেপালকে চিন এমন ভারতবিরোধী করে তুলেছে যে, ভারত ও নেপাল সম্পর্ক এখন তলানিতে এসে গেছে। সবশেষ ঘটনা হল ভারতের সীমান্ত এলাকার তিন অঞ্চলে লিপিয়াধুয়া, কালাপানি ও লিপোলেখকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছে এবং চিনের পরামর্শে নেপাল সরকার মানচিত্র পালটে সংবিধান সংশোধন করে ওই তিনটি অঞ্চলকে নিজের এলাকাভুক্ত করেছে। সেইমতো সংবিধান সংশোধন বিলটি গত 13 জুন 2020 খ্রিস্টাব্দে নেপালি পার্লামেন্টে পাস করিয়ে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী ওলি। এ ব্যাপারে ভারতের প্রতিবাদকে পাত্তাই দেয়নি মাওবাদী সমর্থিত ওলি সরকার। অবশ্য এর ফলে নেপালি জনগণের মধ্যে ওলি বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এরপর নেপালে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলার পর 2021 খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন শের বাহাদুর দেউবা। 2022 খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে দেউবা ভারত সফরে আসেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। অর্থনীতি, বাণিজ্য, শক্তিসহ বেশ কিছু বিষয়ে নতুন করে চুক্তি হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অনেকটাই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যৎ-ই বলবে এর পরিণতির কথা। অপরদিকে মালদ্বীপের জনগণ বিক্ষোভের মাধ্যমে সেদেশে চিন সমর্থিত সরকারের পতন ঘটায়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন