ভারতে নকশাল আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় ভারতীয় কমিউনিস্ট (মার্কসবাদী) দলের নেতৃত্বে 1967 খ্রিস্টাব্দে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত হয়। নকশালবাড়ি থানা এলাকায় কৃষক আন্দোলন ধীরে ধীরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে যা পরবর্তী সময়ে নকশালবাড়ি আন্দোলন নামে পরিচিত হয়। 1969 খ্রিস্টাব্দে আন্দোলনকারী নেতারা CPI দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং চারু মজুমদারের নেতৃত্বে CPI(ML) নামে একটি নতুন দল গঠিত হয়। চারু মজুমদার এই দলকে নিয়ে গেরিলা সংগ্রামের কৌশল অবলম্বন করে বিপ্লবের নতুন অধ্যায় সূচনা করেন।
নকশালবাদী আন্দোলন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জমিদারদের দখলিকৃত জমি পুনরুদ্ধার করে তা ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন করে। আন্দোলনের প্রকৃতি ছিল সশস্ত্র। কংগ্রেস দ্বারা পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতিষেধমূলক আটক আইন প্রয়োগ করলেও তাদের দমানো সম্ভব হয়নি। বরং পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গই কেবল নয়, ভারতের অন্যান্য প্রান্তেও নকশাল আন্দোলন প্রভাব বিস্তার করে।
বর্তমানে নয়টি রাজ্যের 75টি জেলায় নকশালবাদীরা হিংসাত্মক কার্যকলাপ পরিচালনা করে। প্রধানত পিছিয়ে পড়া, সেই জেলাগুলিতে নকশালবাদী আন্দোলন তার প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম ছিল। যে-সকল এলাকা আদিবাসী অধ্যুষিত এমন এলাকাগুলিতে নকশাল কর্মকাণ্ড সক্রিয় ছিল। এই সকল অঞ্চলগুলিতে বর্গাদার কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষকগণ তাদের প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত ছিল এবং মহাজনদের দ্বারা শোষিত ইত্যাদি বিষয়গুলি ছিল নকশাল আন্দোলন গড়ে ওঠার কারণ। এই সকল সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণের কারণে আন্দোলন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে।
নকশাল আন্দোলনকে নিঃশেষ করতে সব রাজ্যের সরকারই কঠোর হয়। মানবাধিকার সংস্থা এর তীব্র সমালোচনা করে। এদের দমনে যথেষ্ট কঠোরতা অবলম্বন করা হয়। বহুক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলেও সমগ্র দেশ থেকে নকশালবাদীদের সম্পূর্ণ নিঃশেষ করা সম্ভব হয়নি আজও।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন