দ্বিতীয় বিশ্বের পতনের পর ভারতের উচিত ছিল বিদেশ নীতি পরিবর্তন করা। পক্ষে ও বিপক্ষে 2টি করে যুক্তি দাও।
দ্বিতীয় বিশ্বের পতনের পর ভারতের উচিত ছিল বিদেশ নীতি পরিবর্তন করা। পক্ষে ও বিপক্ষে 2টি করে যুক্তি দাও।
উত্তর: প্রস্তাবের বিপক্ষে উপরিউক্ত বক্তব্যটির সঙ্গে আমি একমত নই। তাই এই বিতর্কে আমি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আমার যুক্তি উপস্থিত করব। ভারত চিরকালই রাশিয়ার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেছে এবং আমার মনে হয় না, ঠান্ডা যুদ্ধের অবসানের পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশনীতিতে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। আমি আরও মনে করি, ভারতের চিরায়ত বন্ধু রাশিয়ার থেকে আমেরিকার সঙ্গে অধিকতর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। কারণ—
[i] স্বাধীনতার পর থেকেই বিশেষ করে 1950-এর দশকের প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের (USSR) অত্যন্ত গভীর আন্তরিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন তার উন্নত প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি দিয়ে ভারতের শিল্পায়নে সাহায্য করেছে। ভারতে ইস্পাত শিল্পের মতো বৃহৎ শিল্প এবং অন্যান্য অনুসারী শিল্প সোভিয়েতের সাহায্যে গড়ে উঠেছে। তা ছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনেও সাহায্য করেছে। উভয় দেশে আমদানি ও রফতানি ভারসাম্য আছে। অপরদিকে আমেরিকা সর্বদাই পাকিস্তানকে সমর্থন করে। আমেরিকার যে অর্থ ও অস্ত্র পাকিস্তান পায়, তা সর্বদা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সব যুদ্ধেই আমেরিকা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে প্রচুর অত্যাধুনিক অস্ত্র, বিমান, ট্যাংক প্রভৃতি দিয়ে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ভারত সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়ার সাহায্য পেয়েছে। বিপদের সময়ে রাশিয়া ভারতকে অর্থ, অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে।
[ii] আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ভারত চিরকাল সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়ার কাছ থেকে সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছে। বিশেষ করে কাশ্মীর বিষয়ে রাশিয়া ভারতের পক্ষে পাকিস্তানের বিপক্ষে বারবার ‘ভেটো প্রয়োগ করেছে। নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর বিতর্কে আমেরিকা চিরকাল ভারতের স্বার্থবিরোধী বক্তব্য রেখেছে অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বদাই পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। এরপরেও কি রাশিয়াকে ছেড়ে আমেরিকার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর প্রশ্ন থাকে?
প্রস্তাবের পক্ষে: আলোচ্য প্রস্তাবটি যাঁরা সমর্থন করেন, তাঁদের পক্ষে যুক্তি হল—
[i] সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তার উত্তরসূরি রাশিয়ার সঙ্গে থাকার কথা যারা বলেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন, কারণ তখন রাশিয়ার অবস্থা ছিল ভারতের থেকেও খারাপ। সেক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে অতীত ভুলে দ্রুত সখ্যতা বৃদ্ধি করাই উচিত।
[ii] এই প্রস্তাবের বিপক্ষবাদীরা বারবার কাশ্মীর ইস্যুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরে রাশিয়ার সমর্থনের কথা বলেছেন। এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এর পেছনে রাশিয়ার স্বার্থও জড়িত। কারণ বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকা ও চিন দুই মহাশক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়া বিরোধী। এক্ষেত্রে ভারতের মতো বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সর্বদাই পাশে পাওয়া যথেষ্ট লাভজনক। তাই সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়া ভারতকে সমর্থন করে এসেছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন