জরুরি অবস্থার সময়ে আসলে কী ঘটেছিল ?
উত্তর: 1975 খ্রিস্টাব্দের 25 জুন রাত্রে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের কাছে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করেন। সুপারিশ প্রদানের পর মুহূর্তেই রাষ্ট্রপতি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন।
[i] প্রতিবাদী আন্দোলন নিষিদ্ধ : জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার ফলে সকল প্রকার আন্দোলন থেমে যায়। হরতাল, ধর্মঘট ইত্যাদি সকল প্রকার প্রতিরোধ বা প্রতিবাদী আন্দোলনগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়। বিরোধী দলসমূহের নেতাদের কারারুদ্ধ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে নিবর্তনমূলক আটক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বহু নাগরিককে অন্যায় করতে পারে এমন আশঙ্কায় বিনা বিচারে আটক করা হয়।
[ii] অবৈধ আটক : জরুরি অবস্থার সময় বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ লেখ জারির মাধ্যমে অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার সাধারণ মানুষের খর্ব হয়। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও জীবনের অধিকার খর্ব করা হয় জরুরি অবস্থার সময়। দেশের বিভিন্ন হাইকোর্ট বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ লেখ কার্যকর করে রাখার পক্ষে রায় দিলেও সুপ্রিম কোর্ট এই রায়কে খারিজ করে সরকারের সমর্থনে রায় দেয়। ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত কিছু অপরাধ বা বেআইনি কার্যকলাপের আশঙ্কা থেকে বা ভবিষ্যতে ঘটতে যাচ্ছে এইরূপ কোনো অপরাধ করা থেকে বিরত বা নিবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে বিনা বিচারে যখন কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় তখন সেই আইনকে নিবর্তনমূলক আটক আইন বলে। যেমন—MISA, COFEPOSA ইত্যাদি। জরুরি অবস্থা চলাকালে এই আইনগুলি যথেচ্ছ ব্যবহৃত হয়েছিল।
[iii] সাম্প্রদায়িক দল নিষিদ্ধ : সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সম্ভাব্য হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এবং জামাতি ইসলামি নামক দুটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে।
[iv] সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ : এই অবস্থায় প্রচার মাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে বলা হয় যে, সংবাদপত্র সংস্থাগুলি সংবাদ মুদ্রণের পূর্বে সরকারি অনুমতি নিতে বাধ্য। জরুরি অবস্থার পরিণতি হিসেবে এককথায় বলা যায় যে, জরুরি অবস্থার সঙ্গে সরকার বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করে এবং প্রয়োগের ফলে উপরিলিখিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে যা পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করতে পারি যদিও এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ঘটনাগুলি বিরল ছিল—
[i] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং স্টেট্সম্যান-এর মতো সংবাদপত্রগুলি বিধিনিষেধের অন্তর্ভুক্ত সংবাদের পাতাগুলি খালি রেখে প্রতিবাদ জানায়।
[ii] জরুরি অবস্থায় লেখনীর সাহস দেখিয়েছিলেন বেশ কিছু সাংবাদিক। যদিও তাদের এই সাহস দেখানোর ফলস্বরূপ কারাবরণ করতে হয়।
[iii] সরকারি বিধিনিষেধকে তোয়াক্কা না-করে গোপন আস্তানা থেকে প্রচুর পরিমাণে সংবাদপত্র ও প্রচারপত্র প্রকাশ করা হয়।
[iv] গণতন্ত্রের হত্যার প্রতিবাদে কন্নড় লেখক শিবরাম কারা তাঁর প্রাপ্ত পদ্মভূষণ পুরস্কার সরকারকে ফিরিয়ে দেন।
[v] হিন্দি লেখক ফণীশ্বরনাথ রেণু তাঁর পদ্মশ্রী পুরস্কার ফিরিয়ে দেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন