ভারতের চতুর্থ লোকসভা নির্বাচনে কীভাবে রাজনীতির বহুমাত্রিক পরিবর্তন ঘটেছিল ?
উত্তর: 1967 খ্রিস্টাব্দের চতুর্থ লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় রাজনীতির পরিবর্তন এনেছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে। যেমন—
[i] জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে ধাক্কা : জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেস দুক্ষেত্রেই ভীষণভাবে ধাক্কা খায়। কংগ্রেস কোনোরকমে লোকসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু 1952 খ্রিস্টাব্দের পর থেকে এই নির্বাচনের ফল ছিল সর্বনিম্ন আসনে জয়। সাতটি রাজ্যে কংগ্রেস তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। অন্য দুটি রাজ্যে দলবদলজনিত সমস্যার কারণে কংগ্রেস সরকার গঠন করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে—পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, মাদ্রাজ এবং কেরল— এই রাজ্যগুলিতে কংগ্রেস তার ক্ষমতা হারায়, ফলে কংগ্রেসকে এই ফলাফল জোটবদ্ধতার পথে এগিয়ে দেয়। 1967 খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনের ফলে ভারতীয় রাজনীতিতে জোট-ব্যবস্থার আবির্ভাব হয়।
[ii] দলত্যাগের হিড়িক : 1967 খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনের পর চলমান রাজনীতির জন্য আর-একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা বৈশিষ্ট্য ছিল দলত্যাগ। এই দলত্যাগ যে-কোনো সরকারের ভাঙাগড়ার ক্ষেত্রে উপকরণ হিসেবে কাজ করত। 1967 খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের পর অসন্তুষ্ট কিছু দলত্যাগী কংগ্রেস বিধায়ক তিনটি প্রদেশে অকংগ্রেসি সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রদেশগুলি হল হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ। ওই সময়ে ঘন ঘন দলবদল এবং পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক আনুগত্যকে জনগণ জনপ্রিয়ভাবে ‘আয়া রাম, গয়া রাম' নাম দিয়েছিলেন।
[iii] রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দ্বন্দ্ব : 1967 খ্রিস্টাব্দে নির্বাচনের পর কংগ্রেসে বিভাজন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। 1969 খ্রিস্টাব্দের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস দল বিভাজিত হয়ে পড়ে, যা অরগানাইজেশন ও রিক্যুইজিশনিস্ট নামে পরিচিত। Organisation সিন্ডিকেট পরিচালিত এবং Requisitionist ইন্দিরা গান্ধি পরিচালিত ছিল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন