গরিবি হঠাও কী ? 'গরিবি হঠাও' স্লোগানের প্রায় চার দশক পরেও আমাদের চতুষ্পার্শ্বের সীমাহীন গরিবি এখনও বিরাজমান, এই স্লোগানটি কি শুধুই নির্বাচনি চমক ছিল ?
উত্তর: গরিবি হঠাও: 1969 খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নতুন ও পুরাতন— দলে বিভক্ত হয়। ইন্দিরা সমর্থিত নতুন কংগ্রেস দল স্বভাবতই সংখ্যালঘু ছিল। এমতাবস্থায় 1971-এর লোকসভা নির্বাচনে নিজের ক্ষেত্রকে মজবুত করতে ইন্দিরা গান্ধি সমাজতান্ত্রিক ধাঁচে একগুচ্ছ কর্মসূচির প্রচার করেন যার শিরোনামই ছিল 'গরিবি হঠাও'।
• 1971 খ্রিস্টাব্দে সাধারণ নির্বাচনের প্রচারে শ্রীমতী গান্ধির ‘গরিবি হঠাও' স্লোগানটি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়। 1967 খ্রিস্টাব্দে নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি, কংগ্রেসের অন্দরে দ্বন্দ্বের তীব্রতা সবকিছুই দেশে কংগ্রেসের ভাবমূর্তিকে দুর্বল করেছিল।
1967-র পর এবং 1971-র নির্বাচনের প্রাক্কালে শ্রীমতী গান্ধি যথেষ্ট কোণঠাসা ছিলেন রাজনৈতিকভাবে। কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক সংকট ছিল গোটা দেশ জুড়ে। 1971 খ্রিস্টাব্দে নির্বাচনের প্রাক্কালে কংগ্রেসের সম্পূর্ণ ভাঙনের পর সংখ্যালঘু কংগ্রেসের নতুন দলকে নিয়ে নির্বাচনে লড়াই-এর সিদ্ধান্ত এবং ‘গরিবি হঠাও’ স্লোগান—দুটিই ছিল শ্রীমতী গান্ধির জরুরি দৃঢ় পদক্ষেপ। তিনি 1971 খ্রিস্টাব্দে নির্বাচনের প্রাক্কালে 10 দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন যার ফলে অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়।
1971 খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে শ্রীমতী গান্ধি জয়ী হন। ‘গরিবি হঠাও' স্লোগানটি দেশের সমর্থনের ভিত্তি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ইন্দিরা গান্ধির রাজনৈতিক কৌশল বলেই প্রমাণিত হয় নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে। কারণ নির্বাচনের পর বিভিন্ন জায়গায় গণবিদ্রোহ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বঞ্চনা নিয়ে গণ আন্দোলন ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে যা জনগণের প্রত্যাশা পূরণের ব্যর্থতাকে প্রমাণ করে।
সুতরাং, ‘গরিবি হঠাও' স্লোগানটি নির্বাচনি চমক বা রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া কিছুই ছিল না বলেই প্রমাণিত হয়। ভারতের মতো দেশে সীমাহীন দারিদ্র্য, অশিক্ষা, জাতপাত, ভেদাভেদ ছিল প্রকট। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইন্দিরা গান্ধির "গরিবি হঠাও” স্লোগান রাজনৈতিক কৌশলই বলা যেতে পারে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন